অভিমানে অর্ঘ্য
- অনুপ কুমার বিশ্বজিৎ
আজ বলি— আমি নারী-বিদ্বেষী। কিন্তু সে বিদ্বেষ নহে, যেমন শরতের আকাশ মেঘকে ত্যাগ করিয়া তাহার স্মৃতি ভুলিতে পারে না, তেমনি আমার এ কথার অন্তরালে অগণিত অশ্রুর ইতিহাস রহিয়াছে।
তুমি এসেছিলে— বসন্তের প্রথম দক্ষিণা-বায়ুর ন্যায়, অচেনা ফুলের গন্ধে আমার নির্জন বনভূমি ভরিয়া তুলিয়াছিলে। আমি ভাবিয়াছিলাম, এবার বুঝি জীবনের সকল শূন্যতা তোমার দুটি নয়নের আলোয় পূর্ণ হইবে।
কিন্তু হায়, তুমি ছিলে সন্ধ্যাতারার মতো— দূর হতে দীপ্ত, নিকটে আসিবার নহে।
আমি আমার সমস্ত কামনা তোমার চরণতলে রাখিয়াছিলাম, যেমন নদী সাগরের কাছে নিজের নাম বিসর্জন দেয়। আমি আমার সমস্ত অহংকার তোমার হাসির বিনিময়ে ত্যাগ করিয়াছিলাম, যেমন প্রদীপ প্রভাতের আগমনে নিজের শিখা নিভাইয়া দেয়।
তবু তুমি গেলে।
তোমার যাওয়ার শব্দ শুনি নাই, শুধু অনুভব করিয়াছি— আমার হৃদয়ের বকুলবনে হঠাৎ ফুল ঝরিবার বেদনা।
আজ যে অভিমান, সে তোমার বিরুদ্ধে নহে— সে আমারই অক্ষমতার প্রতি। আজ যে বিরহ, সে তোমার অনুপস্থিতি নহে— সে আমার স্বপ্নগুলির অনাথ হইয়া যাওয়া।
রাত্রির গভীর নিস্তব্ধতায় যখন সকল তারা আকাশে জাগিয়া থাকে, আমি তখনো তোমার স্মৃতির কাছে এক নীরব ভিখারির ন্যায় দাঁড়াইয়া থাকি। কিছুই চাই না— শুধু সেই হারানো দিনের একটুখানি সুবাস।
তাই যদি কখনো বলি— “আমি নারীকে আর বিশ্বাস করি না”, জেনো, সে বাক্যের মধ্যে ক্রোধের চেয়ে বেশি আছে কান্না, বিদ্বেষের চেয়ে বেশি আছে অপূর্ণ ভালোবাসা।
কারণ, যাহাকে সত্যই ভালোবাসা যায়, তাহাকে ঘৃণা করা যায় না— তাহাকে শুধু আজীবন নীরবে স্মরণ করিয়া বিরহের প্রদীপ জ্বালাইয়া রাখা যায়।
১৮-০৬-২০২৬
রকমারি থেকে বই কিনুন
মন্তব্যসমূহ
এখানে এপর্যন্ত 0টি মন্তব্য এসেছে।

মন্তব্য যোগ করুন
কবিতাটির উপর আপনার মন্তব্য জানাতে লগইন করুন।