অর্ঘ্যের শেষ প্রদীপ
- অনুপ কুমার বিশ্বজিৎ

আমার সব কিছু বিসর্জন দিলাম তোমার পদতলে— যেন সন্ধ্যার নদী নিজের সমস্ত স্রোত সাগরের নীরব চরণে সমর্পণ করে।
যা ছিল আমার বলিয়া, আজ তাহার আর কোনো নাম নাই— শিউলির মতো ঝরিয়া পড়িল তোমার প্রভাতের পথের ধুলায়।
আমার গোপন বাসনা, অকথিত বেদনা, অশ্রুর নীল অঞ্জলি, সব রাখিলাম তোমার দ্বারের কাছে— যেন পূজার শেষে শেষ প্রদীপখানি নিভিবার আগে একবার কাঁপিয়া উঠে।
আমি আর কিছু চাই না— না প্রাপ্তির সোনার মুকুট, না প্রতিদানের মাল্য। শুধু চাই, তোমার আকাশের এক কোণে আমার বিসর্জনের ধূপধোঁয়া ক্ষণেকের তরে ভাসিয়া থাকুক।
যে প্রেমে অধিকার নাই, সেই প্রেমেরই আরতি জ্বালিয়া আমি দাঁড়াইয়া আছি নিঃশব্দ মন্দিরে— যেন শরতের শ্বেত কাশবন দিগন্তের পায়ে নিজের সমস্ত শুভ্রতা উৎসর্গ করে।
আজ আমার সমস্ত সঞ্চয়, সমস্ত অহংকার, সমস্ত স্বপ্নের রঙিন পাল— তোমার পদতলে রাখিয়া আমি শূন্য হইলাম।
আর সেই শূন্যতার মাঝেই অদ্ভুত এক পূর্ণতা ফুটিল— যেন হারাইয়া ফেলিয়া অবশেষে পাইয়া গেলাম অনন্তের স্পর্শ।


২৫-০৬-২০২৬
রকমারি থেকে বই কিনুন
মন্তব্য যোগ করুন

কবিতাটির উপর আপনার মন্তব্য জানাতে লগইন করুন।

মন্তব্যসমূহ

এখানে এপর্যন্ত 0টি মন্তব্য এসেছে।


slot gacor 2026 slot gacor situs slot gacor 2026