মানবতার শোক
- অনুপ কুমার বিশ্বজিৎ
আজ মানবতার বীণায় কে বাজাইল এমন করুণ বিষাদের সুর?
কোন অদৃশ্য অন্ধকার মানুষের হৃদয়ের প্রদীপ নিভাইয়া
হাসির মালা পরাইল মৃত্যুর কণ্ঠে?
একটি নীরব প্রাণ—
বিশ্বাসের সমস্ত অর্ঘ্য লইয়া
মানুষের চরণে মাথা রাখিয়াছিল।
সে জানিত,
মানুষ মানেই আশ্রয়,
মানুষ মানেই মমতার উষ্ণ করতল।
তাই গলায় যখন পাষাণের ভার বাঁধিয়া দেওয়া হইল,
সে প্রতিবাদ করিল না;
দাঁত বসাইল না বিশ্বাসঘাতকের হাতে।
সে ভাবিল—
"যাহাদের চোখে আমি স্নেহ দেখিয়াছি,
তাহারা কখনো আমার মৃত্যুর আয়োজন করিবে না।"
কিন্তু হায়!
মানুষের মুখোশের অন্তরালে
যে নিষ্ঠুরতার এমন কৃষ্ণরাত্রি লুকাইয়া ছিল,
সে কথা তাহার সরল প্রাণ জানিত না।
স্রোতস্বিনী নদী তাহাকে ডাকিল না—
ডাকিল মানুষের নির্মমতা।
জল তাহাকে ডুবাইল না—
ডুবাইল মানুষের বিবেকহীন হৃদয়।
আজ পরাজিত হইল মানুষ,
জয়ী হইল একটি কুকুরের বিশ্বস্ততা।
কারণ বিশ্বাসের যে দীপ
সে প্রাণ দিয়া রক্ষা করিল,
মানুষ তাহা নিজের হাতে নিভাইয়া ফেলিল।
যে হৃদয়
অন্যের আর্তনাদে উৎসব করে,
সে হৃদয় আর হৃদয় নহে—
সে এক শ্মশান,
যেখানে করুণার সকল ফুল
অনাদরে ঝরিয়া পড়ে।
হে মানুষ,
এখনো যদি তোমার অন্তরে
এক ফোঁটা অশ্রুর আলো জাগিয়া থাকে,
তবে দাঁড়াও—
প্রতিটি নির্বাক প্রাণের পাশে দাঁড়াও।
কারণ যেদিন পৃথিবী হইতে
করুণা বিদায় লইবে,
সেদিন মানুষের পরিচয় থাকিবে,
কিন্তু মানবতা আর থাকিবে না।
— অর্নব
২৭-০৬-২০২৬
রকমারি থেকে বই কিনুন
মন্তব্যসমূহ
এখানে এপর্যন্ত 0টি মন্তব্য এসেছে।

মন্তব্য যোগ করুন
কবিতাটির উপর আপনার মন্তব্য জানাতে লগইন করুন।