জীবন এক টুকরা ফসলি জমিন
- ফয়জুল মহী
মানুষের জীবনটা অদ্ভুত একবার কর্মজীবনে পা রাখার পর তার জীবনে “শান্তি” শব্দটা যেনো উধাও হয়ে ধীরে ধীরে বিলাসিতা হয়ে যায়।ছোট বেলায় মানুষ ভাবে বড় হয়ে টাকা উপার্জন করবে, পরিবারকে ভালো রাখবে, নিজের স্বপ্ন পূরণ করবে। কিন্তু বাস্তবতা মানুষকে খুব দ্রুত শিখিয়ে দেয়, স্বপ্নের চেয়ে দায়িত্বের ওজন অনেক বেশি।
একটা সময় আসে যখন তার ঘুমের মধ্যেও হিসাব চলতে থাকে। মাস শেষে কত টাকা লাগবে, পরিবারের মুখে হাসি থাকবে তো? বাবা-মায়ের চিকিৎসা, ভাই বোনের দায়িত্ব, পরে নিজের ভবিষ্যৎ, সংসার সন্তান । আর এই সবকিছুর বোঝা নিঃশব্দে কাঁধে তুলে নেয় একজন মানুষ। সবচেয়ে কষ্টের বিষয় হলো, এই কষ্ট কেউ দেখতে পায় না। ক্লান্ত হলেও কাজ করতে হয়, মন ভাঙলেও হাসতে হয়, ভেতরে ঝড় চললেও বলতে হয় “আমি ভালো আছি।”
কেউ জিজ্ঞেস করে না সে ঠিকমতো ঘুমিয়েছে কিনা, তার মন খারাপ কিনা, সে আর কতটুকু মানসিক ভার সইতে পারবে। আসলে সমাজ শিখায় দায়িত্ব কাঁধে নিয়ে দুর্বল হওয়া যাবে না। তাই একবার কর্মজীবন শুরু হলে ধীরে ধীরে নিজের ইচ্ছেগুলোকে মেরে ফেলতে হয়। জীবনের সবচেয়ে বড় বিলাসিতা হয়ে যায় একটু শান্তি, একটু নিশ্চিন্ত আরাম, আর দায়িত্বহীন একটা দিন। এইভাবে দায়িত্বের পিছনে দৌড়াতে দৌড়াতে একদিন মৃত্যু এসেই তাকে সত্যিকারের বিশ্রাম দেয়।
সময় ফুরিয়ে গেলে মানুষের গুরুত্বও কমে যায় ধীরে ধীরে। যে মানুষটাকে একসময় ছাড়া চলতো না,একদিন তাকেই আর প্রয়োজন মনে হয় না। অথচ মানুষ বদলায় না হুট করে,বদলে যায় পরিস্থিতি,কমে যায় কদর,ফিকে হয়ে যায় অনুভূতি। যেনো সম্পর্কেরও এক ধরনের মেয়াদকাল থাকে। মেয়াদ শেষ তারপর যত যত্নেই আগলে রাখো ভেতরে ভেতরে দূরত্ব জন্ম নিতেই থাকে। সবচেয়ে অবাক করা বিষয় হলো,মানুষ তখনই দূরে সরে যায় যখন তাকে বেশী আপন ভাবতে শুরু করে মন । তাই এখন আর কাউকে ধরে রাখার চেষ্টা করা ঠিক না। কারণ জোর করে ভালোবাসায় থাকা মানুষগুলো একসময় স্মৃতিতে বেশী বিষাক্ত হয়ে যায় । এই জন্যই মজিদ মিয়া আলাদা হয়ে একক পরিবার নিয়ে বাঁচতে চায়।
গল্পঃ প্রবাস (১৭)
৩০-০৬-২০২৬
রকমারি থেকে বই কিনুন
মন্তব্যসমূহ
এখানে এপর্যন্ত 0টি মন্তব্য এসেছে।

মন্তব্য যোগ করুন
কবিতাটির উপর আপনার মন্তব্য জানাতে লগইন করুন।