স্বপ্নও জানালার কাচ
- ফয়জুল মহী
বিশ্ব রোড হতে চিওড়া কিংবা লাঙ্গলকোট যেতে প্রাকৃতিক দৃশ্যটা বর্ষাকালেই বেশী সুন্দর ও মনোরম। নব্বই দশকে রেলগাড়ি করে এইসব জায়গায় কতশতবার গিয়েছি তার কোনো ইতিবৃত্ত নাই। ছাত্র জীবনে অনেক বন্ধুদের গন্তব্য ছিলো চিওড়া কিংবা লাঙ্গলকোর্ট কলেজ। টাকা পয়সা যোগাড় করে উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা দিতে কেন্দ্রে বসতে পারলেই পাস শতে শত নিশ্চিত কারণ সেখানে তখন ছিলো নকলের মহা উৎসব। তখন একবার সড়ক পথে গিয়ে এসে প্রচণ্ড জ্বরের কবলে পড়তে হয় আমাকে। শীতকালে কুয়াশার চাদরে আচ্ছাদিত পরিবেশে কৃষক ব্যস্ত জমিতে সবজি ফলাতে। কয়েকটি কচি কচি শিশু লালশাকের জমির আইলে ফড়িং এর পিছনে দৌড়বাজিতে ব্যস্ত। দূর্বাঘাসের ডগা হতে শাকের ডগায় মাকড়সার জাল। ছুয়ে ছুয়ে শিশির দানা হাতে লাগতে শিশু দলের খিল খিল হাসির শব্দ যেনো স্বর্গীয় আওয়াজ পুলকিত করে দেহমন। কাচা রাস্তার ধুলাবালিতে নাক ও চোখের জল এক হয়ে প্রচণ্ড কষ্ট দিয়ে ছিলো আমাকে। জ্বরের প্রকোপ এত ছিলো যে কয়েকদিন জ্ঞানপবন হারা ছিলাম।
আজ আবার যেতে হচ্ছে সেই পথে। আষাঢ় মাসের পানি রাস্তা ছুঁই ছুঁই। আমাদের এলাকার মত এখনো এত দালান বাড়ি গড়ে উঠেনি রাস্তার পাশে। ডুবু ডুবু রাস্তার পাশে ডিঙি নৌকা বাঁধা চোখে পড়ে দুই/একটা। পিচ ঢালা বড় রাস্তাটায় বড় বড় গর্ত। আমার সিএনজিটা দপাদপ গর্তে পড়ে আর আমার দমটা হাতে আসে। গর্ত হয়ে পানি জমে থাকায় স্থানীয় দোকানদার ও বিভিন্ন গাড়ি চালক টাকা তুলে রাস্তা মেরামত করছে। দেখে মনে হবে জনদরদিহীন উন্নয়ন বঞ্চিত জনপথ। একটু দুর গেলে রাস্তার পাশে সুন্দর ছিমছাম কাবার ঘর। দেখে মনে পড়লো এখানে আছে বড় বড় জাতীয় নেতা যেমন আছে নোয়াখালীতে। এই জাতীয় নেতাদের ওজনে রাস্তাঘাট ও হাসপাতাল ভঙ্গুর অবস্থা। আমি ছুটে চলছি তেজের বাজার দিকে। তেজের বাজার হতে একটু পরে মিয়ার বাজার ভুঁইয়া বাড়ি। দাফন করতে হবে ক্যান্সার আক্রান্ত হয়ে মারা যাওয়া আত্মীয়কে।
সকাল এগারটায় দাফন করার কথা হলেও আরো আগেই মাটি দিতে চায় উনার স্বজনগণ। কারণ লাশ হতে রক্তক্ষরণ হচ্ছে। একটু পর পর গর্তে পড়ে আর উঠেও সিএনজি চলছে প্রচণ্ড দ্রুত গতিতে। রাস্তার পাশে কাবাব ঘরে একটু বসতে ইচ্ছে করলো তবে সময় ও সুযোগ নেই। কিন্ত আমি ক্লান্ত ।
স্বচ্ছ দপদপে নীল পানিতে টুইটুম্বর একটা নদী। আগে দেখেছি কিনা মনে নেই। নদীর উপর দিয়ে পার হতে ড্রাভারকে জিজ্ঞাসা করলাম-এই নদীর নাম কী।
ডাকাতিয়া নদী।
রুক্ষ ও তীক্ষ্ণ বিরক্তিভরা কণ্ঠ ছোট্ট উত্তর ড্রাইভারের।
একটা দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে অস্ফুট স্বরে আমি ডাকাতিয়া বলে ডাক দিলাম। রাস্তার পাশে এক স্থানীয় গর্ভবতী যুবতী হাতে একটা মেয়ে, কোলে একটা ছেলে নিয়ে যানবাহনের অপেক্ষায় দাড়িয়ে আছে। ব্রিজের নিচে পানিতে ঝুকে কলস ভরছে কিশোরী। পিছনে ফিরে দেখতে থাকলাম ডাকাতিয়া নদী।
ক্লিভেজ প্রদর্শিত ভারত মহাসাগর ,আরব সাগর, কিংবা ভূমধ্যসাগর আমাকে ফিরিয়ে দিতে পারেনি কিশোর কিংবা যৌবন। একটা লাশ ফিরিয়ে দিলো ডাকাতিয়া। আর ডাকাতিয়া ফিরিয়ে দিলো আষাঢ়ের কৃষ্ণচূড়া রমণী । (বাকি )
ছোটগল্প
ছবিঃ আয়রা। জানালার কাচ
ফ য় জু ল ম হী
বিশ্ব রোড হতে চিওড়া কিংবা লাঙ্গলকোট যেতে প্রাকৃতিক দৃশ্যটা বর্ষাকালেই বেশী সুন্দর ও মনোরম। নব্বই দশকে রেলগাড়ি করে এইসব জায়গায় কতশতবার গিয়েছি তার কোনো ইতিবৃত্ত নাই। ছাত্র জীবনে অনেক বন্ধুদের গন্তব্য ছিলো চিওড়া কিংবা লাঙ্গলকোর্ট কলেজ। টাকা পয়সা যোগাড় করে উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা দিতে কেন্দ্রে বসতে পারলেই পাস শতে শত নিশ্চিত কারণ সেখানে তখন ছিলো নকলের মহা উৎসব। তখন একবার সড়ক পথে গিয়ে এসে প্রচণ্ড জ্বরের কবলে পড়তে হয় আমাকে। শীতকালে কুয়াশার চাদরে আচ্ছাদিত পরিবেশে কৃষক ব্যস্ত জমিতে সবজি ফলাতে। কয়েকটি কচি কচি শিশু লালশাকের জমির আইলে ফড়িং এর পিছনে দৌড়বাজিতে ব্যস্ত। দূর্বাঘাসের ডগা হতে শাকের ডগায় মাকড়সার জাল। ছুয়ে ছুয়ে শিশির দানা হাতে লাগতে শিশু দলের খিল খিল হাসির শব্দ যেনো স্বর্গীয় আওয়াজ পুলকিত করে দেহমন। কাচা রাস্তার ধুলাবালিতে নাক ও চোখের জল এক হয়ে প্রচণ্ড কষ্ট দিয়ে ছিলো আমাকে। জ্বরের প্রকোপ এত ছিলো যে কয়েকদিন জ্ঞানপবন হারা ছিলাম।
আজ আবার যেতে হচ্ছে সেই পথে। আষাঢ় মাসের পানি রাস্তা ছুঁই ছুঁই। আমাদের এলাকার মত এখনো এত দালান বাড়ি গড়ে উঠেনি রাস্তার পাশে। ডুবু ডুবু রাস্তার পাশে ডিঙি নৌকা বাঁধা চোখে পড়ে দুই/একটা। পিচ ঢালা বড় রাস্তাটায় বড় বড় গর্ত। আমার সিএনজিটা দপাদপ গর্তে পড়ে আর আমার দমটা হাতে আসে। গর্ত হয়ে পানি জমে থাকায় স্থানীয় দোকানদার ও বিভিন্ন গাড়ি চালক টাকা তুলে রাস্তা মেরামত করছে। দেখে মনে হবে জনদরদিহীন উন্নয়ন বঞ্চিত জনপথ। একটু দুর গেলে রাস্তার পাশে সুন্দর ছিমছাম কাবার ঘর। দেখে মনে পড়লো এখানে আছে বড় বড় জাতীয় নেতা যেমন আছে নোয়াখালীতে। এই জাতীয় নেতাদের ওজনে রাস্তাঘাট ও হাসপাতাল ভঙ্গুর অবস্থা। আমি ছুটে চলছি তেজের বাজার দিকে। তেজের বাজার হতে একটু পরে মিয়ার বাজার ভুঁইয়া বাড়ি। দাফন করতে হবে ক্যান্সার আক্রান্ত হয়ে মারা যাওয়া আত্মীয়কে।
সকাল এগারটায় দাফন করার কথা হলেও আরো আগেই মাটি দিতে চায় উনার স্বজনগণ। কারণ লাশ হতে রক্তক্ষরণ হচ্ছে। একটু পর পর গর্তে পড়ে আর উঠেও সিএনজি চলছে প্রচণ্ড দ্রুত গতিতে। রাস্তার পাশে কাবাব ঘরে একটু বসতে ইচ্ছে করলো তবে সময় ও সুযোগ নেই। কিন্ত আমি ক্লান্ত ।
স্বচ্ছ দপদপে নীল পানিতে টুইটুম্বর একটা নদী। আগে দেখেছি কিনা মনে নেই। নদীর উপর দিয়ে পার হতে ড্রাভারকে জিজ্ঞাসা করলাম-এই নদীর নাম কী।
ডাকাতিয়া নদী।
রুক্ষ ও তীক্ষ্ণ বিরক্তিভরা কণ্ঠ ছোট্ট উত্তর ড্রাইভারের।
একটা দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে অস্ফুট স্বরে আমি ডাকাতিয়া বলে ডাক দিলাম। রাস্তার পাশে এক স্থানীয় গর্ভবতী যুবতী হাতে একটা মেয়ে, কোলে একটা ছেলে নিয়ে যানবাহনের অপেক্ষায় দাড়িয়ে আছে। ব্রিজের নিচে পানিতে ঝুকে কলস ভরছে কিশোরী। পিছনে ফিরে দেখতে থাকলাম ডাকাতিয়া নদী।
ক্লিভেজ প্রদর্শিত ভারত মহাসাগর ,আরব সাগর, কিংবা ভূমধ্যসাগর আমাকে ফিরিয়ে দিতে পারেনি কিশোর কিংবা যৌবন। একটা লাশ ফিরিয়ে দিলো ডাকাতিয়া। আর ডাকাতিয়া ফিরিয়ে দিলো আষাঢ়ের কৃষ্ণচূড়া রমণী । (বাকি )
ছোটগল্প
৩০-০৬-২০২৬
রকমারি থেকে বই কিনুন
মন্তব্যসমূহ
এখানে এপর্যন্ত 0টি মন্তব্য এসেছে।

মন্তব্য যোগ করুন
কবিতাটির উপর আপনার মন্তব্য জানাতে লগইন করুন।