দেশ পরিবর্তনের দরখাস্ত
- প্রসূন গোস্বামী

আমার কাছে একটা পুরোনো জন্ম-রসিদ আছে,
যদি কিছু অতিরিক্ত ফি দিতে হয়, দেব—
তবু এই দেশটা বদলে আমাকে অন্য কিছু দেওয়া হোক।

খুব বেশি কিছু অবশ্য চাই না,
যে কোনো একটা মোটামুটি বাসযোগ্য জায়গা হলেই চলবে।
যেখানে ধর্মান্ধেরা প্রতিদিন সকালে উঠেই
ধর্মের দোহাই দিয়ে রগচটা হুংকার ছাড়বে না,
আর ইতরতার নতুন নতুন রেকর্ড গড়ে
তালি বাজিয়ে বলবে না— ‘এটাই আমাদের কৃষ্টি!’

বিকেলবেলা বড়বাবুর দপ্তরে গিয়েছিলাম,
কাউন্টারের বাবুকে খুব বিনয়ের সঙ্গে বললাম,
‘মশাই, দেশটা কি একটু রিটার্ন নেওয়া যায়?
ভুল জিনিস ডেলিভারি হয়েছে বোধহয়!’

বাবু চশমার ওপর দিয়ে বিষণ্ন মুখে তাকিয়ে বললেন,
‘রসিদে তো স্পষ্ট লেখা আছে ভাই—
“একবার ধর্মান্ধদের হাতে গিজগিজ করা দেশ বুঝে নিলে
তা আর ফেরত দেওয়ার কোনো স্কিম নাই।”
আপনি বরং এক কাজ করুন,
কানে ভালো করে তুলো গুঁজে দিন,
আর রাস্তায় নেমে দল বেঁধে চেঁচিয়ে বলুন—
সব ঠিক চলছে, সব দারুণ চলছে!’

আমি বাড়ি ফেরার পথে দেখলাম,
রাস্তার মোড়ে কয়েকজন উন্মত্ত মানুষ
লাঠি আর ধর্মের পতাকা উঁচিয়ে আমার পরিচয় মাপার চেষ্টা করছে।
আমার বিশ্বাস আর ভক্তির দৌড় কতটা,
তা নিয়ে বেশ চিন্তিত মনে হলো তাদের।

আমি দুটো হাতজোড় করে খুব বিনীতভাবে বললাম,
‘আহা মশাই, অকারণ চটছেন কেন?
ভুল বুঝবেন না, আমি তো এই দেশের লোকই নই!
আমি তো পাসপোর্ট ছাড়াই ভুল করে চলে এসেছি
কোনো এক হারিয়ে যাওয়া মানুষের দেশ থেকে!’


২৬-০৭-২০২৬
রকমারি থেকে বই কিনুন
মন্তব্য যোগ করুন

কবিতাটির উপর আপনার মন্তব্য জানাতে লগইন করুন।

মন্তব্যসমূহ

এখানে এপর্যন্ত 0টি মন্তব্য এসেছে।


slot gacor 2026 slot gacor situs slot gacor 2026