মেঘের জঠরে বিদ্ধ বর্ণমালা
- প্রসূন গোস্বামী
আমার পায়ের নিচে কোনো মাটি নেই, অথচ মানুষ হাঁটছে,
মানুষের বুকের ভেতর কোনো নদী নেই, অথচ অনবরত ভাঙছে পাড়।
এই যে দুপুর, এই যে ছায়ার মতন ঝুলে থাকা একটা প্রাচীন শাসন,
তারই নিচে দাঁড়িয়ে তুমি শাড়ি ওড়ালে, বিউটি রানি।
শাড়ি তো নয়— যেন এক টুকরো রোদ্দুর ছুঁড়ে দিলে
এই অন্ধকার, এই থমথমে গলিত মড়কের মুখে।
এখানে বাতাস ভারী হয়ে আছে সস্তা বারুদে আর কুৎসায়,
অথচ তোমার আঙুলে ছিল স্বরবর্ণের আলো;
তুমি তো কোনো মেঘদূত পাঠাওনি, বিউটি,
তুমি শুধু চেয়েছিলে এই খাঁ খাঁ করা বধ্যভূমিতে
কয়েকটা শিশু অন্তত হাসুক, কয়েকটা পাখি অন্তত ডানা ঝাড়ুক।
অথচ চারধারে ব্যাঙের মতন চ্যাটচ্যাটে মানুষের চোখ,
তারা সুড়সুড় করে গর্ত থেকে বেরিয়ে আসে,
পবিত্রতার ভড়ং মেখে থুতু ফেলে তোমার শাড়ির আঁচলে।
আমরা এখন এমন এক বাংলাদেশে বেঁচে আছি, শক্তিমান,
যেখানে গান গাওয়া পাপ, যেখানে শঙ্খ বাজানো অপরাধ,
যেখানে উঠোনে একটু পা ফেলে দাঁড়ানো মানেই—
হাজারটা শেয়ালের হুক্কাহুয়া!
লাঠিয়ালরা ওত পেতে আছে ডালপালায়,
তারা তোমার ওই ‘মন উদাসী’ সুরের ভেতর
খুঁজে পায় নরকের গন্ধ।
কী আশ্চর্য, যারা দেশটাকে চিবিয়ে খেলো, তাদের মুখে চন্দন,
আর যে নারী দু’হাত ভরে আলো বিলোলো— সে-ই অপরাধী!
বিউটি রানি পাল, তুমি তো জানো না—
এই বাংলায় এখন অন্ধরাই চোখের বিচার করে।
তবু তুমি হেসো, যেমন করে দুলে ওঠে বুনো ওলটকম্বল,
যেমন করে ফেঞ্চুগঞ্জের হাওরে হঠাৎ নেমে আসে বেপরোয়া বৃষ্টি;
তোমার ওই হেঁটে যাওয়ার নামই তো বেঁচে থাকা,
বাকি যা কিছু চারধারে ধুঁকছে— তারা তো সেরেফ মৃতের মিছিল।
আমি চলে যাব, চলেও গেছি হয়তো বা,
কিন্তু এই ঘোর দুর্দিনের পিঠে তোমার ওই এক চিলতে হাসি
একটা জ্বলন্ত পেরেকের মতন বিঁধে থাকবে।
কে বলে তুমি একা?
ওই শোনো, মেঘের জঠর চিরে বেরোচ্ছে কোটি কোটি নতুন অক্ষরের ডাক!
২৮-০৭-২০২৬
রকমারি থেকে বই কিনুন
মন্তব্যসমূহ
এখানে এপর্যন্ত 0টি মন্তব্য এসেছে।

মন্তব্য যোগ করুন
কবিতাটির উপর আপনার মন্তব্য জানাতে লগইন করুন।