অন্তিম হারিয়ে যাওয়া
- অনুপ কুমার বিশ্বজিৎ
একদিন এমন করিয়া হারাইব আমি,
যে মৃত্যুর দেবতাও বিস্মিত হইয়া
আমার নাম উচ্চারণ করিবে বারেবারে—
তবু খুঁজিয়া পাইবে না আমার কোনো চিহ্ন।
কারণ আমি মৃত্যুর অতলে হারাইব না,
হারাইব তোমার দুটি নয়নের গভীর নীলিমায়;
যেখানে এক মুহূর্তের দৃষ্টিই
সহস্র জন্মের জীবন হইয়া ওঠে।
আমি বিলীন হইব তোমার স্পর্শের অগ্নিশিখায়,
যে আগুন দহন করে না—
বরং প্রেমের প্রদীপ জ্বালাইয়া
আত্মাকে করে পবিত্র।
আমি আশ্রয় লইব তোমার শাড়ির নীরব ভাঁজে,
যেন শিশিরবিন্দু লুকায় গোলাপের পাপড়িতে;
কেহ জানিবে না—
আমি আছি, অথচ সকলের অগোচরে।
তোমার কণ্ঠের মৃদু সুরে
আমার সমস্ত ক্লান্তি ঘুমাইয়া পড়ুক;
তোমার ভালোবাসার আকাঙ্ক্ষায়
আমার সকল অপেক্ষা পূর্ণতা লাভ করুক।
তোমার চরণের ধূলায়
পিষ্ট হউক আমার অহংকার, গর্ব, সকল প্রাপ্তির হিসাব;
রহিয়া যাক কেবল এক বিনম্র নিবেদন—
তোমায় ভালোবাসিয়াছিলাম নিঃশেষে।
যদি কোনোদিন কেহ জিজ্ঞাসে—
"সে কোথায় হারাইল?"
বলিও, সে মৃত্যুর দেশে নয়,
হারাইয়া গিয়াছে এক নারীর ভালোবাসার অনন্তে।
সেই হারাইয়া যাওয়াই হউক আমার মুক্তি,
সেই বিলীন হওয়াই হউক আমার চিরজীবন;
কারণ তোমাতে যে একবার সত্যই হারায়,
সে আর কখনো পৃথিবীতে ফিরিয়া আসে না।
২৮-০৭-২০২৬
রকমারি থেকে বই কিনুন
মন্তব্যসমূহ
এখানে এপর্যন্ত 0টি মন্তব্য এসেছে।

মন্তব্য যোগ করুন
কবিতাটির উপর আপনার মন্তব্য জানাতে লগইন করুন।