আসল বাড়ি
- আজাদ বঙ্গবাসী

মা তোমার পা দু'খানা
দাও ত একটু দেখি
কোথায় আসল বাড়ি
যত্ন করে রাখি।
এইখানেতে নয়রে বাছা
কিন্তু কথা নয় ক মিছা
আগে যদি মাকে তুমি
সেবার মত সেব
সেই বাড়িটি আমি না হয়
তোমায় কিনে দেব।
খোকার ভীরু বুকের ভেতর
জেগে ওঠে ভয়
আগে নাকি করতে হবে
মায়ের মনটি জয়।
সেই থেকে খোকন মায়ের
সকল কথাই শোনে
কবে পাব আসল বাড়ি
সময় শুধু গোনে।

||



শ্রদ্ধেয় সম্পাদক

কবি, শিশুসাহিত্যিক ও পাখি পর্যবেক্ষক,

রহীম শাহ



প্রীতি ফুলেল শুভেচ্ছা নিন। শিশু সাহিত্য উৎসবে  প্রকাশের জন্য নিম্নে আমার একগুচ্ছ ছড়া ঠালাম। আশা করি আপনার সুবিবেচনায়, এর মধ্য থেকে প্রয়োজনীয় যে কোন ছড়া প্রকাশিত হবে।




 বিনীত

 আজাদ বঙ্গবাসী


সৃষ্টি কমপ্লেক্স, বিশ্বাস বেতকা, টাঙ্গাইল।

মোবাইল: ০১৭২৭৫০১৬৭১




শিশুতোষ একগুচ্ছ ছড়া || আজাদ বঙ্গবাসী


||



আড়ি



আয় রে চাঁদ নেমে আয়
আয় রে দোলে দোলে
খলখলিয়ে হাসব দু'জন
মায়ের কোলে কোলে ।

মায়ের হাতে দুধের বাটি
রাখবো কিন্তু তুলে? 
দুষ্টমিতে পাঁকা যে তুই
মেঘ পেয়ে যাস ভুলে ।

আড়ি আড়ি তোর সাথে 
আমার ভীষণ আড়ি
তুই যে হঠাৎ আমায় ফেলে 
কোথায় যাস ছাড়ি?


তোর সাথে খেলব না
একটি কথাও বলব না
কিনেছি নতুন শাড়ি
কালকে আমার পুতুল বিয়ে
যাবে শ্বশুর বাড়ি।



|| 


বৈশাখিরা  


 বছর ঘুরে বৈশাখিরা আবার এলো দেশে

আমের মুকুল নদীর দু'কুল সাজলো নতুন বেশে। 

চারদিক তাই মুখরিত মধুপেয়ালের গানে 
ফুল পাখিরা দুল পড়াল সবুজ ঘাসের কানে। 


সড়াৎ মড়াৎ কড়াৎ বাজনা, ছুটে শ্যামলির ডালে
নৌকা হয়ে ভাসে দেখো, দুখিনী মায়ের চালে।




||



সেরা মানুষ



মিষ্টি বাবু গোল্লা পায়
খাতা দেখে বকে মায়
রাগ করে মিষ্টি তাই
করে ভীষণ পণ
পড়ব ভালো লেখব ভালো
রাখব মায়ের মন।


মিষ্টি এখন নাহি করে
আগের মত দুষ্টামি
একটি শুধু ইচ্ছে তার
'সেরা মানুষ-  হবোই আমি।




||


তুলনা



তোমরাও শিশু আমরাও শিশু
তবে পার্থক্য আছে কিছু

আমরা যখন ক্ষুধার্ত থাকি ভীষণে
তোমরা তখন বিদেশ থাক মিশনে।

তোমরা হলে ধনির দুলাল, ফুল বাবু আর ফুলি 
আমরা হলাম গরিবের পুত, রাস্তা ঘাটের কুলি! 

তোমরা তো ভাই স্কুলে যাও,  রঙিন গাড়ি চড়ি
আমরা শুধু চেয়ে থাকি নয়ন দুটি ভরি।

কচি মনে প্রশ্ন জাগে-   পেট কেন কাঁদে
আমরা কেন রাস্তায় ঘোমাই, বাগান কেন ছাদে?

তোমরা কি খাও-  মোটা কেন ভুরি
দু'মুঠো ভাতের জন্য আমরা কেন ঘুরি?




||



অবুঝ কিছু



আমরা দুরন্ত, আমরা উরন্ত, আমরা ফুলের কলি
সবুজ পাতায় স্বপ্ন আঁকি পাখির কণ্ঠে বলি!

আমরা শিশু, অবুঝ কিছু, ছুটি জলে - স্থলে
রঙিন ফুলের স্বপ্ন অলি মনের শতদলে।


কখনো আবার আকাশ জুড়ি 
উড়াই সাধের রঙিন ঘুড়ি

কত কিছু হতে চাই, কত কিছুর কল্প করি
গুজনের সাথে আমরা কত কিছুর বায়না ধরি।


এই তো সুখ!  এই তো হাসি! 
একটু খানি ব্যথা পেলেই  চোখের জলে ভাসি।




||



শেয়াল মামার বিয়ে



মুরগী নিলো, মোরগ নিলো, হাঁস কোথায় রে 
শেয়াল বেটা পলিয়ে গেলো ওই তো ছুটে রে!
ওই তো ধায়!  লাফিয়ে যায় গাছের আড় দিয়ে
গাড় মটকিয়ে কাঁধে লটকিয়ে মুরগীটাকে নিয়ে। 


কুকুর মশাই তাইনা দেখে মারলো এক ল্যাং
শেয়াল মামার ভেঙে গেল, তেরে লম্ফ ঠ্যাং

বনের পশু এলো সবাই
মুরগীটাকে করবে জবাই
শিয়াল মামা কিনে জামা
রোদে বৃষ্টিত হবে বিয়ে
ঢাক বাজিয়ে ঢোল বাজিয়ে
টুপর মাথায় দিয়ে ।


কাঁদে এখন ল্যাংরু মামা 
ছিড়ে ফেলে বিয়ের জামা
কবে রোদ বৃষ্টি হবে 
সেদিন যে তার বিয়ে হবে
ভাবে শুধু শেয়াল মামা । 



||


বর্ণখেলা



বর্ণখেলা বর্ণখেলা কে কে খেলবি আয়
হঠাৎ দেখে,  বলবে লোকে,  কোন পাখিরা গায়? 
আয়রে তোরা ছুটে আয়, সবছেলেরা জুটে আয় 
খাতায় খাতায় মনের পাতায় খেলবি আজি বর্ণখেলা
সকাল রাঙা বিকেল চাঙা করিসনে ভাই হেলা।

আয়রে তোরা ছুটে আয় সবমেয়েরা  জুটে আয় 
বর্ণখেলা বর্ণখেলা কে কে খেলবি আয়
আ-কার বসে ডানে, আর এ-কার বসে বায় 
আয়রে তোরা দোলে আয় বর্ণ কানন ফুলের গায়
কুঁড়িকুঁড়ি স্বর্ণকুঁড়ি বর্ন পুরিকায়
ঙ- কে ব্যাঙের নৌকা,  চড়ে পাঠশালায়। 



||

দোল



গাছে গাছে দোলে পাতা
খোকন কোলে কোলে
তারায় তারায় দোলে চাঁদ
বাগান ফুলে ফুলে।

বাতাস পেয়ে ফসল দোলে
ঢেউ ঢেউ নদী দোলে
পতপতিয়ে পতাকা দোলে
স্বাধীন আমার মায়ের কোলে।



||

পাখি




আয়রে পাখি আয়
চড়বি খোকার নায়
যাস নে বনে উড়ে
খোকন ডাকে তোরে ।


এই যে আমার বাগান
আসবি প্রতি ভোরে।





||



বি.দ্র. 


যদি কোন বানান ভুল পরিলক্ষিত হয়, সংশোধন করে প্রকাশের অনুরোধ জ্ঞাপন করছি। 


০৬-০৬-২০২৩
রকমারি থেকে বই কিনুন
মন্তব্য যোগ করুন

কবিতাটির উপর আপনার মন্তব্য জানাতে লগইন করুন।

মন্তব্যসমূহ

এখানে এপর্যন্ত 1টি মন্তব্য এসেছে।

১১-০২-২০১৫ ১৯:৩৫ মিঃ

valo laglo bhi @@@@