» ফিলিংস-৩
- কাজী ফাতেমা ছবি

প্রতিদিন সকালের গৃহস্থালী রান্নাবাটি
কাটাকুটি পেয়াজের ঝাঁঝেতে কান্নাকাটি,

অথবা দৈনন্দিন আনুষঙ্গিক কর্মশেষে
ঝিম ধরা মন আর দেহ অবসন্ন আবেশে

জানালার পাশে এসে-ই স্বস্তির নি:শ্বাস ফেলি
এবং দীর্ঘশ্বাসের শেষ নি:শ্বাস নিয়ে চোখ মেলি

পর্দা সরিয়ে দেই একটু শীতল হাওয়ার জন্য;
প্রকৃতি মেলে পাখা, ছড়িয়ে দেয় লাবণ্য

আচম্বিতে চক্ষু আটকায় গিয়ে রাস্তার ধারে....
নির্নিমেষ দৃষ্টি ধূলো ওড়া রাস্তার ওপারে

ফুটফুটে শিশু কোলে ভিক্ষার থালা হাতে মা....
আরো দুটি শিশু মলিন বসন আর নগ্ন পা ।

আসা যাওয়ার পথে মর্নিং ওয়াকিং-এ মানুষ
যে যার মতো গল্পে রত উড়িয়ে রঙ ফানুস

কেউ কেউ কিছু না কিছু মায়ের থালাতে ফেলে...
মা থালার পানে তাকায় বারবার স্থির দৃষ্টি মেলে।

অবুঝ শিশুরা মায়ের চারপাশে নেচে বেড়ায়....
ওদের উল্লাস মায়ের মনে যেনো আলো ছড়ায়।

বেঁচে থাকা এই!!.... শিশুরআনন্দে মা উৎফুল্ল
অভাব সব ভুলে মায়ের ধরা খুশিতে দুললো।

কেউ কিছু দিক বা না দিক,দেখুক বা না-ই দেখুক!
কেউ ভিক্ষুক বলে অবজ্ঞা গায়ে নাইবা মাখুক....

এমন খুশি মাখা মুখ দেখলে খুব ভালো লাগে
তিক্ততা সব ভুলে বেঁচে থাকার ইচ্ছে জাগে।

মাশব্দতিক্ত জীবনে একফোঁটা নিবারক
বেঁচে থাকার জন্য মিষ্টি মধুর এক তবারক।

নি:স্ব হয়েও বেঁচে থাকার মানে বুঝতে হয়,
বেঁচে থাকা কাকে বলে মন থেকে জানতে হয়;

হুম, বেঁচে থাকা শিখতে যেতে হয় স্বপ্ন এঁকে
শিখি রোজ পথে বসে থাকা মায়ের কাছ থেকে।


০৬-০৬-২০২৩
রকমারি থেকে বই কিনুন
মন্তব্য যোগ করুন

কবিতাটির উপর আপনার মন্তব্য জানাতে লগইন করুন।

মন্তব্যসমূহ

এখানে এপর্যন্ত 0টি মন্তব্য এসেছে।