অস্তরবির খেয়া
- তানজির উদ্দিন

চলিলা দুর্গম পথের পানে
অনশনে চির বঞ্চনার টানে
প্রাণের বন্ধনে চলে হে
উদয়ের গান শুনি এ পথ হতে
চাইনি খুঁজি পাইতে কাল
নিষ্কলুশ নিরবতার আকাল,
বহুদূর পথ হতে
সে আজি আবার ফিরিছে এ রথে
নিরালায়-নিরাকারে অন্ধকারে হাতড়াইয়াছে
চক্ষু মুদি কী গান জাগিছে
পথের অন্তিম ক্ষণে;

ঐ দূর পথ হতে আক্রোশের বাণী
নেতিনিয়াহুর হুঙ্কারে টলেছিল সানি
দেখে নাই পথের মাঝের আকার
গিয়াছে চলি ফেলি যাত্রার গানের পার,
দূর মরুর পথে পথে
শঙ্কা-
বারেরারে আনিল প্রলয় ডঙ্কা
ওঁত পাতে প্রলয় মাঝে বাজায় শিঙ্গা সেপথিক;
গগণ হতে আনিয়াছিল মানবতা দেখিয়াছি কাঁদিয়া ফিরে বারেবারেসত্ত্বা
যাত্রার গগণ তারা দেয় নিভায়ে আলো
আঁধার অন্ধকার শূন্যতায় ঘেরে ওলো,
মধ্যদিনের এ মুরিদি
গাহিবে কেবা গান-
এ প্রত্যুষ বেলায়
খেয়া তার চলিবে দীর্ঘ রজনীর হেলায়শুধু ইঙ্গতে
সংহার করি প্রসার আলতে
ব্যাজ্ঞণ করিল রাখিল অনন্তর বহতা|
উদয়ে নিয়াছিলা অনুরাগ বাসন্তী
বিরাগ,
শ্রাবণঘন মেঘের আড়ে শূন্য আঁধারে
রবির কিরণ লাগিয়া ভাবিয়া যবে বারে
দীর্ঘ সফর শ্রান্ত করি ক্লান্তি আসিয়া ভিড়ে
তরীর পরে এখনি লাগে ঢুলুঢুলু মেঘের আড়ে
রজীনী তাহার দীর্ঘতর হাঁকে দু-কূল ছাপি
নাবিক উঠে কাঁপিয়া ভীরু ভীরু জলের কাঁপি,
হে উদয় সন্ধানী যাও হে পশ্চিম গগণফেলি
ঐপূর্বগগণ পারে,যেথা রজনী ফুটায়াছে বেলি
কৃষ্ঞপুরীর মাঝেরমজ্ঞুষার বাণীর হাতছিনি যতই ডাকে বারংবার গগণ তারার দিয়াছেফাঁকি
মৃদঙ্গ লহরী খেলিয়াযবে ঐ পথ ধরি
কোঁচ লইয়া যেথা উঠিবে শাশ্বত রূপী অন্ধপুরীর রবি উদয়ে দেখিবে ধুপ-রূপী,
তবু দেখে নাই-

যেথা সে এসেছিল মর্ত্যে দেবতার সেজে
গানখানি তাহার বাজে সংকীর্ণতায় তেজে
বিরাহার নিহারী নিরাকার বিরাগী
যবে মুখ তুলি ঊর্ধ্বপানের তরে বিবাগী;
ক্রন্দসীর তীরে তীরে উদলায় দু পা ফেলি
কাঁদে নাই যেচে নাই মর্ত্যরে টানি কাছের বলি
কী বামনবোলের রঙেরে যেচেছে কাছের বলি
দেবতা মোর, নাহি কর সংশয় আনি
এ তটের পরে আনিয়াছে রবির কিরণ,
তব লাগি-
খেয়ায় করি বহু যায় চলি উদয়ের পথে
আসেনা তাহারা কেহ বারেবারে
রজনী গান গেয়ে বারংবার চলে দিগন্তের পথে
আসেনা গাহিতে দিবসের গাল
এ কূলেতে,
মোর গান গাহিতেছে তবু ঐ যাত্রার পাখি
নিরালায় ঐকান্তিক সুরে জেগেছে আঁখি ।


০৬-০৬-২০২৩
রকমারি থেকে বই কিনুন
মন্তব্য যোগ করুন

কবিতাটির উপর আপনার মন্তব্য জানাতে লগইন করুন।

মন্তব্যসমূহ

এখানে এপর্যন্ত 0টি মন্তব্য এসেছে।