রঙের মৃত্যু
- সীমান্ত মুরাদ

রঙ !
এই আপনি কি রঙের
স্রষ্টাকে দেখেছেন ?
দেখেন নি , তাই না ?

দেখব না , মানে !

আজও ভুলিনি সেই সজীবদাকে ৷
ফিরোজাকাশে এক
চিমটি নক্ষত্রহীন
আলোর খেলা আর শরতের বুকে হেমন্তের
শীতল বাতাস ঠিক ওরকম ছিল সজীবদা ৷

রঙ ! সজীবতার মাঝে নির্জীবতাকে পুজিঁ করত সজীবদা ৷
কতদিন ক্লাসে বই ফেলে নদীর পাড়ে ঘুরে বেড়াত যেন সিংহ শাবক বারেবারে
শিকারের টানে অরণ্যে ফেরে ৷ অরণ্য দেবীও প্রসন্নচিত্তে মেলে দিত
সব ৷
রঙ যেন ওখানেই ছিল ৷

আমায় ডেকে বলত ," বুঝলি , সীমান্ত আর্ট ছাড়া কিছু হবি নারে কিচ্ছুটি হবে না" ৷

বৈশাখের ঝড়ে খটখটে শুকনো
মাটি শুষে নেয় বর্ষনের
সবি , চাতকের বর্ষনের
পরে যে আকর্ষন
আমার আমিত্বও তাই ৷

হা করেই সব শুনতাম ৷
কি করেই বা কি বলতাম ৷

শেষবার যেদিন সজীবদাকে দেখলাম ,
সেদিন ছিল ঘন আধারের রঙে রাঙা নবম প্রহরের এক অশুভ তিথি , ছিঃ ছিঃ , বীথির জন্য এই কীর্তি ৷

রঙের স্রষ্টা নারী রঙে
রঙীন হয়ে ঝুলে আছে
হিজল শাখে ৷

কী অদ্ভুত !
হাত দুটি মুঠি পাকিয়ে ছিল ,
দু হাতে চারটি তুলি ,
নিয়ে চলে গেল নরকে ৷
তখনও হাতে আঙ্গুলে গেরুয়া রঙ
ঠিক যেন বীথির
গায়ের রঙ ৷
আর সেই নদী দিয়েই ফিরে এল
রঙের স্রষ্টা ব্যবচ্ছেদ
হয়ে , আত্মহননের
সম্মাননা পত্রে লয়ে ৷

হাঃ হাঃ হাঃ ,
প্রেমাভিশাপ , রঙের স্রষ্টাকেও ভস্মিত করে যমের চিতায় ৷

কিংবা আজন্ম কান্নায়
ভাসায় , হতভাগা
মাতায় পিতায় ৷


তাঃ ২৩ ডিসেম্বর , ২০১৪ খ্রীঃ


০৬-০৬-২০২৩
রকমারি থেকে বই কিনুন
মন্তব্য যোগ করুন

কবিতাটির উপর আপনার মন্তব্য জানাতে লগইন করুন।

মন্তব্যসমূহ

এখানে এপর্যন্ত 0টি মন্তব্য এসেছে।