এক যুগ পর দেখা
- আরিফুল হক দ্বীপ

এইযে নূপুর সেন,চিনতে পেরেছো আমায়?
আমি সেই ছোট্ট শংকর।
তোমার কুঞ্জে রোজই যে আসতো একদিন,
পাখায় তোমার বাতাস খেতো
আর গেলাশে তোমার চুমুক খেয়ে-
পারতো না যে চোখ দুটো তুলতে আর।
সুরসুরি দিতে তুমি তখন দুষ্টুমির ছলে,
আমার বুকে গালে
লম্বা নোখে তোমার।
কানে বাজাতে কাচের চুড়ি,
চিনতে পেরেছোতো?
এমন শুকিয়ে গেছো তুমি আহা,
উঠেছে ভেসে কণ্ঠার হাড়।
এখনকি রোজ বসে না তোমার বনে
রংবেরঙের প্রজাপতির মেলা?
এখনোকি আছে তোমার সেই
গালে টোল পড়া নক্ষত্র হাসিটি?
এখনোকি চলে তোমার সেই গেলাশের আতিথেয়তা?
বেজে ওঠে নূপুর মাতাল আড়মোড়ায়?
সেই আধো আর্দ্র চুল
বিছিয়ে দাও কারো মুখে?
এখনো খেলো সেই পাগলামী খেলা?
বুঝি সময়ের স্রোতে ভাসতে ভাসতে
এখন তুমি নিঃশব্দ ভাটায়,একাকী কাটাচ্ছো দিন।
রমরমা সব সেই ঠিকানা অতীতের খামে
উড়ে গেছে আজ ওই নীল দিগন্তে।
তুমি এখন কাগজ কুঁড়াও স্টেশনের ধারে
জীবিকার তরে।
ফেলে এসেছি আমি সেই দুঃসময়
সেই হতাশার মেড়কে আবৃত জীবন।
বেজে উঠেছে হুঁইসেল ট্রেনের,
ডাকছে আমায় আমার সুসময়।
এই কিছু রাখো,ওষুধপত্র,ফলমূল কিছু খেয়ো।

কামরার জানলা থেকে তারপরও দেখি আজ
সেই দুর্বল,মায়াভরা চোখ দুটো তার,
হাত নাড়িয়ে-
সেদিনের মতো জানাচ্ছে আজো আমায় বিদায়।।
২৩/৮/২০১৪


০৬-০৬-২০২৩
রকমারি থেকে বই কিনুন
মন্তব্য যোগ করুন

কবিতাটির উপর আপনার মন্তব্য জানাতে লগইন করুন।

মন্তব্যসমূহ

এখানে এপর্যন্ত 0টি মন্তব্য এসেছে।