কেউ রইলো না আপন
- আরিফুল হক দ্বীপ

এখন আমার কেউ নাই আপন,
একখানি ঘর ছিলো
সেটাও আপদ এইবার বানে এসে
ভাসিয়ে নিয়ে গেলো-
এখন আমার কেউ নাই আপন।
একটা রাঙ্গা টুকটুকে বউ ছিলো,
যেমন রুপ তার মনটাও ছিলো বড় সাদা।
কোনদিন খায়নি ভাত একা একা
কখন ফিরি দুয়ারে দাঁড়িয়ে করতো অপেক্ষা।
সদা হাসিমুখ ঝিলের জলে যেমন
হেসে থাকতো পদ্ম শাপলার ফুল।
আঁতুড়ঘরে মরলো সেবার,
হাসি তবু ছিলো ঠোঁটে,হতভাগী বউটি আমার।

মায়ের দুধ নেই,কি বিষম যন্ত্রণা ক্ষুধার
শুকিয়ে শুকিয়ে সোনার টুকরা ছেলে আমার
কাঠি হলো, পৌষের হাড়কাঁপুনি ঠান্ডায়
সেও গেলো চলে মায়ের বাড়ির দেশে,তার কোলেতে
তারার মতো বহুদূরে,শূন্য করে আমায়।

মাঝি বাড়ির মেয়ে ছিলো এক,কিশোরী বয়স,
ষাঁড়ের শিংয়ের গুত্তা থেকে
বাঁচিয়েছিলাম বলে ঋণী হয়ে থাকলো সে,
রাত্রে তার চোখ বুঁজে নাকো স্বপ্ন দেখে
মনের মানুষ,ছুটে আসতো নিশিতে, ভোরে
যখন খুশি সমাজের চোখ গলে আঙ্গিনায় আমার
ঘুম ভাঙ্গাতো ফিসফিস শব্দে,
কদিনেই এই শূন্যজীবনে আমার
তার আনাগোনায় ভুলে গিয়েছি পাথরচাপা কষ্ট,
আকাশের প্রিয়া যেন এলো ফিরে কিশোরীর রুপ ধরে
আমি তাকে আগলে ধরে নতুন করে চেয়েছি বাঁচতে আবার-
কিন্তু সেও আর রইলো না আমার।
সমাজের ভয়ে একদিন পড়লো বেনারসী,
আলতা পায়ে বউটি সাজলো
তারপর -
ইঞ্জিনের নাওয়ে বসে-
চলে গেলো ওই দূর গাঁয়ে,অচেনা মানুষের সাথে।-

এখন আমার তিনকূলে কেউ আর রইলো না আপন।
ভবঘুরে তাই ঘুরি পথে পথে,দেখি সন্ধ্যা নামে কখন।
ওই দূর আকাশে দেখবো তারা,
হাতছানি তাদের,ডাকবে আমারে হাতজোড় করে-
পা বাড়াবো তখন,
চলে যাবো নিঃশব্দে, সকল দৈন্যতা ছেড়ে ওই বহুদূরে-


০৬-০৬-২০২৩
রকমারি থেকে বই কিনুন
মন্তব্য যোগ করুন

কবিতাটির উপর আপনার মন্তব্য জানাতে লগইন করুন।

মন্তব্যসমূহ

এখানে এপর্যন্ত 0টি মন্তব্য এসেছে।