বেহেশত তোর মায়ের পদতলে
- ফয়জুস সালেহীন
তোর কারণে তোর মা ঘুমকে পাঠিয়েছিলো নির্বাসন।
তোর কারণে তোর মা সাধকে দিয়েছিলো বিসর্জন।
মায়ের আঁচলের ছায়ায় কতো যে মায়ায় উঠেছিস খোকা তুই বেড়ে।
অভাবের যাতনায় দুমড়িয়েছে কতোবার, যায়নি কভু সে হেরে।
প্রতিদানের আশায় নয় এ ভালোবাসা, ছিলোনা আবদ্ধ শর্তে।
মা বিনে এতো বাসতে ভালো কে পারে তোদের এই মর্ত্যে?
একটাই স্বপ্ন ছিলো তার চোখে খোকা তুই বড় হবি,হবি অফিসার মস্ত।
অভাবের সূর্যটা একদিন না একদিন যাবে যাবেই অস্ত।
খোকা তুই আজ অনেক বড়,তোর মায়ের স্বপ্নটা সত্যি!
আকাশচুম্বী দালানে শুয়ে ভুলেছিস তুই তোর ভিত্তি।
কিসের মোহে খোকা তুই বল শরীরে মাখিস লোভের কাঁদাজল।
জীর্ণ কুটিরে শীর্ণ শরীরে মায়ের চোখে শ্রাবণের ঢল।
টাকার বালিশে শুতে যাস তুই শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কক্ষে।
কতোটা জ্বালা পুষবে আর তোর মা তার ছোট্ট এই বক্ষে?
দুখের সাগরে ভাসিয়ে মাকে আছিস কি খোকা তুই খুব সুখে?
কারাগারে শুয়ে করছিস পাপের প্রায়শ্চিত্ত,মরছিস ধুকে ধুকে।
ভেবেছিলি তুই বেহেশতের নাগাল পাবি ঐ প্রাচুর্যের চূড়ায়।
বেহেশতটাতো তোর মুঠোয়ই ছিলো, ছিলো তোর দোর গোড়ায়।
বেহেশত ছিলো তোর হাতের নাগালে।
বেহেশত তোর মায়ের পদতলে।।
১০/০৫/২০১৫ খ্রীঃ
০৬-০৬-২০২৩
রকমারি থেকে বই কিনুন
মন্তব্যসমূহ
এখানে এপর্যন্ত 1টি মন্তব্য এসেছে।

মন্তব্য যোগ করুন
কবিতাটির উপর আপনার মন্তব্য জানাতে লগইন করুন।