দ্রৌপদীর বস্ত্র হরণ
- অরুণ কারফা

রাসলীলা, দ্রৌপদীর বস্ত্র হরণ, আর ঘরের শত্রু বিভীষন,
তিনটে নাটকের মহড়া হল শেষ, তবু নেই তেমন কোন বায়না বিশেষ।
যখন সকলে বসে হাত দিয়ে গালে, ভাবছে আর কতদিন এমন করে চলে,
ঠিক তখনি চালিয়ে পুরনো সাইকেল, হাঁপাতে হাঁপাতে এলেন এক মক্কেল
-শুনছ ভাই পাড়ায় রায় বাবুর শালা, চান দিদির অপঘাতের মৃত্যুর বদলা,
সে রকমই একখানা নামিয়ে দাও পালা।

আরম্ভ হল দ্রৌপদীর বস্ত্র হরণ:
- আহ! মরণ হয়েছে নাকি কেষ্টটার, সময় জ্ঞান নেই যেন কোন তার,
সেই কখন গেছে কাপড় আনতে ধোপাবাড়ি,
আর দুঃশাসন তুমি ক’রনা অত বাড়াবাড়ি,
কাঙ্গালের কথা বাসি হলে খাটে, তেমনই তো লোকে বলে এই তল্লাটে।
- তুমি তো রানি বাঙ্গাল নও, খাঁটি ঘটী, গদা নেই হাতে মারব শিরে চটি।
খোল যা আছে খোল, সব কটি দেখি ফেল পায়ে, বেচব না হয় রাসের মেলায়,
কথা হয়ে গেছে কেষ্টর সাথে কিনব একটা সুরেলা বাঁশী
সে বাজাবে আমি গাইব গান, যেমনটি গায় খালি গলায় খাসি।
- তা, তোমার যা গলা রেল লাইনে পারই তো দিতে, তার জন্য অতশত হবেনা ভাবতে।
ইত্যবসরে কৃষ্ণের প্রবেশঃ
- উঁহু, রেল লাইন নয়, কুকাজ অপকর্ম এখানেই হবে সারতে, আলো ফোটার আগেই হবে বাড়ি ফিরে যেতে, সস্তায় বন্যাত্রাণের কাপড় পেয়েছি প্রচুর, কিনে ফেলে হয়ে গেছি পুরোপুরি ফতুর। তাই পকেটখানি খালি, বাসভাড়া নাই পাঞ্চালী।
দুঃশাসন দিয়ে উঠল হাততালি।
- তবে আর কি? আমি রাজি নই, শেষ কর এই বই, এ পালা হবে এখানেই শেষ, আর উৎসাহ নেই আমার বিশেষ, দুঃস্বপ্ন দেখে রাজ্য শাসনের যে, তার জন্য এক ফোঁটা অশ্রু ফেলে কে? তার জন্য এই উপহার! ছিঃ! ছিঃ! চাই জিনস কামিজ আর শালোয়ার, আমিই নয় মেনে নিলেম হার, মানসিকতা নেই ত্রাণের কাপড় নেবার, বেশ দ্রৌপদী লুটোপুটি খাও ওগুলোর উপর, তোমাকেই ওগুলো মানাবে জব্বর, আর কৃষ্ণ তুমি কর দাপাদাপি ঐ গুলো নিয়ে, যুগটার নাম সত্য কি দাপর দেখ মিলিয়ে।।


০৬-০৬-২০২৩
রকমারি থেকে বই কিনুন
মন্তব্য যোগ করুন

কবিতাটির উপর আপনার মন্তব্য জানাতে লগইন করুন।

মন্তব্যসমূহ

এখানে এপর্যন্ত 0টি মন্তব্য এসেছে।


slot gacor 2026 slot gacor situs slot gacor 2026