সন্তানের আর্জি
- ফয়জুস সালেহীন

বাবা যদিও তুমি আমি আছি একই ছাদের নীচে
তবুও মনে হয় তুমি যেনো আছো অনেক দূর।
মনে হয় তোমার আর আমার মাঝে হাজার মাইলের দূরত্ব।
তোমার আর আমার শয়নকক্ষের মাঝের পাঁচ ইঞ্চি প্রাচীরটাকে
মনে হয় যেনো কয়েক মাইল জুড়ে বিস্তৃত।
সময়ের সাথে সাথে যেনো বেড়েই চলেছে সেই দূরত্ব।
বেড়েই চলেছে প্রাচীরের পুরুত্ব্।
বাবা শেষবার কবে আমার মাথায় হাত রেখেছিলে?
মনে করতে পারছিনা তো!
অথচ আমায় রেখেছো কতোইনা যত্ন আত্তিতে।
বাহারী পোষাক,বিলাস দ্রব্য,দামী খেলনা কিংবা মুখরোচক খাবার
চাওয়ার আগেই পৌঁছে যায় আমার কাছে।
রেখেছো বাবা তুমি আমায় কতোইনা আয়েশে!
রেখেছো আমায় শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কক্ষে।
আজ কতোদিন হলো বলোতো বাবা জড়িয়ে নাওনা বক্ষে?
সেদিন উদ্যানে বেড়াতে গিয়ে দেখলাম
"একজন বাবা তার ছেলেকে বাদামের খোসা ছাড়িয়ে দিচ্ছে।
আর ছেলেটি পরম তৃপ্তি সহকারে খাচ্ছে।"
বেশভুষায় তাদেরকে বেশ দরিদ্র বলেই মনে হচ্ছিলো।
কিন্তু জানো বাবা? নিজেকে সেদিন ওদের চেয়েও দরিদ্র মনে হলো।
জানি বাবা আজ তুমি খুব ব্যস্ত।
কতো কতো গুরু দায়িত্ব তোমার হাতে ন্যস্ত!
কথা বলার সময়ও তাকানোর ফুরসৎ পাওনা
আমার চোখের পানে।
সদাই তোমার চোখ আটকে থাকে ল্যাপটপের স্ক্রীনে।
মা বলে, তোমার সময়ের নাকি অনেক দাম?
আমার কাছে কি বিক্রি করবে একটু সময়?
আমার জমানো টাকাগুলো দিয়ে কিনে নিবো তোমার একটু সময়।
তাতেও যদি না কুলোয়
কিনে নিবো বাকিতে।
সময়মতো পরিশোধ করে দিবো চক্রবৃদ্ধি হারে।
বলো বাবা, আমায় কি ঋণ দিবে একটুখানি সময়?
বাবার সঙ্গে সারাবেলা
আজ এই আর্জিটাই বর্ষে।
স্বর্গসুখটা পাই খুঁজে পাই,বাবা তোমার স্পর্শে।
০৯/০৬/২০১৫ খ্রীঃ


০৬-০৬-২০২৩
রকমারি থেকে বই কিনুন
মন্তব্য যোগ করুন

কবিতাটির উপর আপনার মন্তব্য জানাতে লগইন করুন।

মন্তব্যসমূহ

এখানে এপর্যন্ত 1টি মন্তব্য এসেছে।

১১-০৬-২০১৫ ০১:১৬ মিঃ

আজকের বেশীরভাগ বাবারাই ছুটছে অর্থের পিছে কিংবা খ্যাতির পিছে। আর এর মধ্যে যে তার সন্তানটি তার পরম স্নেহ আর সঙ্গ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে সেদিকটা কি কেউ খেয়াল করেছেন?অনেক বাবা ই মনে করে সন্তানের চাহিদা পূরণ করার মধ্যেই সকল দায়িত্ব পালন শেষ। কিন্তু সন্তানের মন যে বাবার স্নেহের জন্য কাঙ্গাল হয়ে থাকে সেটাই কবিতায় তুলে ধরেছি।