কবি ও কদম ফুলের মেয়েটি
- আরিফুল হক দ্বীপ

এই ঘটি,বাসন কোসন আমার হাতে দাও,
পুকুর ঘাটেইতো যাবে
আমিই না হয় ধুয়ে নিয়ে আসি আজ।
এই সংসারে-
কত সইবে আর অবহেলা?
যে এক যুগ ধরে সঞ্চয় করে গেছো
পিঠে,পেটে আর উরুতে
দুশমনীদের বঞ্চনা।
তবুতো থুতু মারতে পারলে না সমাজকে,
আপন করে নিলে বড়
লজ্জাকে দিয়ে আশ্রয়,
ঘোমটা টেনে বলেছিলে,এ হয় না কবি,
অন্ধকার,সমাজের চোখে ধুলো
আর দশ মাস দশদিনের যন্ত্রণা
না,এ হয় না কবি,হয় না।'

সেই যে দুপুর মনে পড়েতো তোমার?
তোমাদের বাড়ী পথে
সেই কদমের গাছ আজো বুঝি আছে,
ডালে বসে কজন ছিঁড়ছিলে ফুল।
শুধু একবার দেখি,তারপর গাঁথি কাব্য পরানে
'ও মেয়ে,দেবেগো ফুল?'
সখিরা সবে তোমার হাসে কেন জানি
তাকালে কেবল তুমি অপলকে,
ছিঁড়লে যত ফুল দিয়ে দিলে আমায় ভরে।
হেঁটে গেলে তারপর-
নতমুখো হয়ে কিবা মনে করে।

তারপর অনামিকা দিবারাত্র তোমায় লিখে
হয়ে যাই কবি,
শয়নে স্বপনে ডাকো বাহু বাড়িয়ে
জানি না,তুমিও কি আমার মতো....
যখন এলে একদিন
আমার হৃদয় ভেঙ্গে তার ঘরে
তোমার বুকেও বুঝি লাগে করুণ বেদন।
ফুটে উঠে মুখে-
বলেছিলে,'এরপর আমিও কাটাই রাত্রি বিনিদ্র,
তোমার মুখখানি তুলি রুমালে
দিচ্ছে গাঁয়ের মেয়ে অচেনা মানুষেরে ফুল।
কোন্ গাঁয়ে থাকো তুমি?কোথায় তোমার বাড়ী?
আর একবার দেখা দিবে?
পড়াবো তোমায় মালা।'
গোপনে নিরালায় ডেকে একদিন
দিলে সেই রুমাল তোমার।
চোখের জলে ওগো বুঝালে মানবী
দিয়েছিলে ঠাঁই মোরে হৃদয় অতল গহীনে।
রেখেছি আজো যতনে তোমার প্রেম,
সুতোয় লেখা সেই শব্দমালা,
এখনো গাই গুনগুনিয়ে একা।

কাঁদছে মেয়ে,এ-কী ছোট্ট খুকী,
পালাবে তুমি?চলো পালিয়ে যাই আজ।
'ক্ষমা করো কবি,ক্ষমা করো।'
পথ ছেড়ে দিতে হলো-
চেয়ে থাকি অপলকে আমার প্রিয়া হাঁটে।
এখনোযে তার নূপুরে আমার পরান দুলে,
কটির ভাষায় আহা দেখি সেই বরষায়
সোনার কিশোরী যাচ্ছে হেঁটে
আমার বুকে টাইফুন তুলে।


০৬-০৬-২০২৩
রকমারি থেকে বই কিনুন
মন্তব্য যোগ করুন

কবিতাটির উপর আপনার মন্তব্য জানাতে লগইন করুন।

মন্তব্যসমূহ

এখানে এপর্যন্ত 0টি মন্তব্য এসেছে।