ফাগুনের এক রাতে
- রুহুল আমীন রৌদ্র
থমথমে শীতার্ত ফাগুনের গভীর নিশীথে,
ঘন তিমিরে চারিপাশ ছেয়ে,
কোথাও নেই এক টুকরো আলো,
শুধু নীরব নিথর নিস্তব্ধ আর ঘন কালো।
জোনাকির মিটিমিটি প্রদীপ ,
আর ঝিঁঝিঁ পোকার ডাক,
মাঝে মাঝে ঘন ঝোঁপে, শিয়ালের হাঁক ।
গহীন বনের ধারে,ছোট্ট এক কুঁটিরে,
আমার পড়ার ঘর,
দখিনে তটনীর কলরব, উত্তরে বালুচর ।
এ গভীর শর্বরীতে, পড়ার টেবিলে,
মোমের বাতি নিভু নিভু জ্বলে,
এ দ্বীপের সমস্ত লোক,গভীর তন্দ্রা বরণে,
আর আমি,
বিষাদক্লিষ্ট হৃদে কাব্য লিখি,
শহীদ ভাইদের স্মরণে।
নিশাচরের পদচারনায় বিভীষিকাময়
চারিপাশ,
গহীন বনে শুকনো পাতার,
মরমরে আওয়াজ।
সহসা বাতায়নের পাশে, শুভ্র পোষাকে,
কারা যেন দাড়িয়ে !
মনে হয় ডাকছে মোরে, শ্বেত হস্ত
বাড়িয়ে
ওরা কারা ?
ওরা কি বাহান্নের তেজদীপ্ত,
সেই অমর সৈনিকেরা ?
আজো সহস্র মা বোন, শহীদ মিনারটি
বক্ষে জড়িয়ে কাঁদে,
ভুলতে চায় সেই দুঃসহ্য যন্ত্রণা,
এইতো তাঁদের দামাল ছেলে,
মিথ্যে সান্ত্বনা।
সেই সোনামুখ যে মিশে গেছে
মৃত্তিকায়,
পিচঢালা রাজপথে।
কত খুঁজিলাম আনমনে,
যদি একটিবার দেখা হয়,সেই শহীদ
ভাইদের সনে ।
রাজপথের সেই স্থানে, আজো রক্তের
গন্ধ পাই,
আজো বারুদের গন্ধ পাই,
কালের স্বাক্ষী, বৃক্ষগুলো দেখতে পাই,
কিন্তু নেই,
কোথাও নেই ওরা,
বাংলার সেই দামাল সৈনিকেরা ।
বাহান্নের পরে, ওরা আর আসেনি ফিরে,
ওরা নিদ্রামগ্ন, বাংলা মায়ের কোলে,
ঘুম পাড়ানি গান শুনায় মা,
বাংলা ভাষার সুরে ।
না, ওরা ঘুমায়নি, ওরা চিরজাগ্রত,
ওরা ফিরে এসেছে রক্তেভেজা,
শহীদ মিনার হয়ে,
ওরা ফিরে এসেছে,বাংলাভাষা লয়ে ।
ওরা কেঁড়ে এনেছে একটি
পতাকা,
হেনেছে শোষন, বঞ্চনা, রেষ,
পেয়েছি মধুর বাংলাভাষা, স্বাধীন
বাংলাদেশ ।
০৬-০৬-২০২৩
রকমারি থেকে বই কিনুন
মন্তব্যসমূহ
এখানে এপর্যন্ত 0টি মন্তব্য এসেছে।

মন্তব্য যোগ করুন
কবিতাটির উপর আপনার মন্তব্য জানাতে লগইন করুন।