অনাথের মিনতি
- রুহুল আমীন রৌদ্র

ও মাঝি ভাই, ও মাঝি ভাই, একটু শুন না,
আমারে নি লইয়া যাইবা, উজানতলীর গাঁ ।
শুনেছি সেথায় মোর, জননীর নিবাস,
আমি যে এথায়, রয়েছি বনবাস !
ছোট্ট দুটি ভাই,
নদীর তীরে খেলতাম খেলা, সুখের অন্ত নাই ।
হঠাৎ করে শনির দৃষ্টি , পড়ল এ সংসারে,
আদরের ধন মা জননী, মোদের গেল ছেড়ে

সাদা কাফন জড়িয়ে গায়ে, নায়র গেল মায়,
চার বেহারায় নিয়ে গেল, উজানতলীর গাঁয় ।
সেই অবধি মা জননী, আসেনা'ক ফিরে,
আমার সনে অভিমানে, রয়েছে বুঝি দূরে ।
কতই না কেঁদেছি অঝর ধারায়, ধরে সবার পায়,
আমারে নি লইয়া যাইবা, উজানতলীর গাঁয় ।
খরস্রোতা এই যে নদী, সাতাঁর জানি না,
ওই পাড়েতে আছে রে ভাই, উউজানতলীর গাঁ ।
আদর করে দুধভাত কেউ, তুলে দেয়না মুখে,
তুমি এসে আচ্ছা করে, বকে দিও বাবাকে।
মাগো তুমি কোথায় আছো, কোন অজানা
দেশে,
আমরাও যাব তোমার সাথে, নিয়ে যাওনা এসে ।
নানুর বাড়ি যেতে যখন, যেতাম চড়ে কোলে,
কতই মান করেছো মাগো, মোদের গেছো
ভুলে।
লাল শাড়িটি জড়িয়ে ধরে, ছোট্ট ভাইটি কাঁদে,
ওদিকে বাবার নতুন বধূ, নতুন ঘর বাঁধে ।
ভাবলাম সেই মা জননী, কতই আদর করবে,
তোমার মত আদর করে, বুকে জড়িয়ে ধরবে ।
ঘুমপাড়ানি গান শুনিয়ে, ঘুমপাড়িয়ে দিবে,
ব্যথা পেলে জল মুছিয়ে, কোলে তুলে নিবে ।
হায়রে কপাল, শুনবে কি হাল, বলছি তবে শুনো,
বিনে দোষে এত কষ্ট, বিধি দিলেন কেন ?
সাঁতার ছলে নদীর জলে, ডুবিয়ে মারলো
ভাইটিরে,
বাবার কাছে নালিশ দিল, দোষী করে মোরে ।
রাগে ক্ষোভে অগ্নিশর্মা, হল বাপ ও সৎমায়ে,
বিনে দোষে বনবাসে মোরে, রাখলে ভাটির
গাঁয়ে ।
সেই অবধি কষ্টে কাঁদি, ভাটির পাড়ে বসে,
মিনয় করি বারেক ফিরে, লয়ে যাওনা এসে ।
মায়ের কাছে বলব খুলে, কষ্টের কথাগুলি,
কপালেতে চুমো দিলেই, সবই যাব ভুলি ।
ও মাঝি ভাই দোহাই লাগে , ধরি তোমার পায়,
শুধুই একবার লইয়া মোরে, উজানতলীর গাঁয় ।
------০-------
রচনাকালঃ২১ /০৫/২০১০ ইং"


০৬-০৬-২০২৩
রকমারি থেকে বই কিনুন
মন্তব্য যোগ করুন

কবিতাটির উপর আপনার মন্তব্য জানাতে লগইন করুন।

মন্তব্যসমূহ

এখানে এপর্যন্ত 0টি মন্তব্য এসেছে।