বংশাই নদী
- রুহুল আমীন রৌদ্র
বংশাই নদীটি চলে এঁকেবেঁকে,
দু'ধারে দিয়ে যায়, ভালবাসা মেখে।
রাশি রাশি কাঁশফুল, দু' ধারে দোলে,
দু'কূল উপচে ওঠে, বরষার জলে ।
ছোট ছোট ডিঙি দিয়ে, মাছ ধরে জেলে,
কিশোরীরা গা ভাসায়, নাহিবার ছলে।
দু'ধারে বসত বাড়ি, ঘন বাঁশের ঝাঁড়,
নিরহংকারী মানুষগুলো, বেঁধেছে সংসার।
শ্রাবণের দিনে ছুটে চলে, ধারা ক্ষরতর,
একবাঁশে সাঁকোতে তাঁরা, করে পারাপাড় ।
মাস্তুলে মাঝি বসে গায়,ভাটিয়ালী গান,
ডিঙি নৌকায় পারাপাড়ে, ভরে যায় প্রাণ।
জাল টেনে মাছ ধরে, জেলেদের দল,
ভরা শ্রাবণে উদাসী নদী, করে টলমল ।
চৈত্রমাসে এ নদীতে, থাকে হাঁটুজল,
চরের বুকে কৃষক ফলায়, সবুজ সব্জি ফসল।
এখন আর যায় না দেখা, সেই মত রূপ,
নদীও পাল্টে গেছে, হারিয়ে স্বরূপ।
নদীর প'রে ঘাটে ঘাটে, হয়েছে ব্রীজ সেতু,
এখন আর গান গায় না মাঝি, সেই আগেরই মতো।
রাখাল আর বাজায় না বাঁশি, উদাস দুপুর বেলা,
ভরা শ্রাবণেও ভরে না নদী, খেলে না আপন খেলা ।
এঁকেবেঁকে ওহে নদী, গিয়েছো যতদূর,
যেখানেই মিশো না কেন, নিয়ে যেই সুর,
মায়ের মতো মিশে আছো, আমাদের প্রাণে,
চিরদিনই মনে রাখিও মোদের, তোমার কলতানে ।
--------০--------
রচনাকালঃ ১৫/১০/২০১৪ ইং
:
:
:
:
------------- বংশাই নদীর পরিচিতি ---------
বংশাই
নদীটি আমাদের
এখানে স্থানীয়ভাবে "কুড়ালিয়া নদী"নামে
পরিচিত।
তবে সর্বসম্মত নয়। এ বংশাই নতীর ধারেই মধুপুর
উপজেলা অবস্থিত ।
উৎপত্তি: বংশাই নদীটি মূলত একটি শাখা নদী। এর
উৎপত্তিস্থল
পুরাতন ব্রক্ষপুত্র হতে। যা জামালপুর সদর হয়ে
ধনবাড়ি,
মধুপুর,ঘাটাইল,বাসাইল,সখীপুর,মির্জাপুর হয়ে ঢাকার
মিরপুরে বুড়িগঙ্গার সাথে মিশেছে।
মির্জাপুরে এসে,যমুনা নদীর উপনদী ধলেশ্বরী এর
শাখানদী এ্যালাংজানীর একটি শাখা লৌহজং
বংশাইয়ের
সাথে মিশেছে।
বংশাই নদীটি কালীয়াকৈরে এসে দুটি ভাগে
বিভক্ত হয়েছে।
যার প্রধান অংশ তুরাগ নাম নিয়ে মিরপুরে
বুড়িগঙ্গার
সাথে মিশেছে। আরেকটি অংশ সাভারে এসে
ধলেশ্বরীর
সাথে মিশেছে।
নামকরণ:১৯৬৭ সালে প্রকাশিত " ময়মনসিংহ ডিস্ট্রক
গেজেটিয়ার
"হতে বলা হয়, "বংশি" নাম হতেই বংশাই নামকরণ হয়।
অবশ্য মধুপুর
গড়ে, গারো, কোচদের পাশাপাশি বংশি নামে এক
ক্ষুদ্র
নৃগোষ্ঠী বাস করতো। অনেকের ধারণা, এ
বংশি নৃগোষ্ঠী র নামানুসারে, এ নদীর নাম বংশাই
হয়েছে।
(সূত্র:টাংগাইল জেলা ইতিহাস ও ঐতিহ্য, পৃঃ ৯৫।)
দৈর্ঘ : উৎপত্তি হতে সঙ্গমস্থল পর্যন্ত এ নদীটির
দৈর্ঘ্য ১০০
মাইল।
(সূত্র: কম্পানী আমলে ঢাকা, জেমস টেলর,পৃঃ ৭।)
ধন্যবাদান্তে
কবি রুহুল আমী রৌদ্র
হলুদিয়া,মধুপুর,
টাংগাইল।
০৬-০৬-২০২৩
রকমারি থেকে বই কিনুন
মন্তব্যসমূহ
এখানে এপর্যন্ত 0টি মন্তব্য এসেছে।

মন্তব্য যোগ করুন
কবিতাটির উপর আপনার মন্তব্য জানাতে লগইন করুন।