চপোটাঘাত
- ফয়জুস সালেহীন

তোমাদের এই যান্ত্রিক নগরে
পেটের দায়ে পড়ে আছে রহিমুদ্দিন ;মাটি কামড়ে।
মাঝগাঙে তলিয়ে গেছে তার পূর্বপুরুষের ভিটা।
সুবর্ণদিনের স্মৃতিগুলো আজ বড্ড কালশিটা।
হররোজ প্যাডেল চাপে মানবচালিত যানে।
পথে পথেই সারাবেলা কালোধোঁয়ার ঘ্রাণে।
কত কত সময় হয় তার নষ্ট সময়খেকো জ্যামে।
ভিজে কখনও বৃষ্টিতে কখনওবা ঘামে।
মানবচালিত যানে বয়ে নিয়ে বেড়ায় দানব।দানব নয়তো কি?
মাত্র দুটো টাকা বেশী চাওয়ার অপরাধে অশ্রাব্য ভাষায় দেয় গালাগাল।
এমনকি গায়ে হাত তুলতেও করেনা কুন্ঠাবোধ।
অথচ নিকোটিনে পুড়ায় কত কত টাকা।
জীবন কাটায় কতইনা ভোগবিলাসে!
বারে বসে বিদেশী মদ গিলে গেলাসে গেলাসে।
ঝলসানো মুরগী খেয়ে তৃপ্তির ঢেকুর তুলে।
একবার খোঁজও নেয়না রহিমুদ্দিনদের ঝলসানো পরিপাকতন্ত্রটার।

একদিন চৈত্রের কাঠফাটা রোদে প্যাডেল চাপছিলো রহিমুদ্দিন।
প্রচন্ড তাপদাহে মেজাজটাও যেন ছিলো তিরিক্ষি হয়ে।
পাশের বিলাসবহুল গাড়িতে বসেছিলো একজন বড়বাবু।
তাপমাত্রাটাও যেন বড়বাবুর নিয়ন্ত্রণে!
একটু অসাবধানতায় রহিমুদ্দিনের রিক্সার ধাক্কা লেগে যায় বড়বাবুর গাড়ির সঙ্গে।
এতো শীতলতার মাঝে থেকেও বড়বাবুর মেজাজটা চড়ে সপ্তমে।
সজোরে চপোটাঘাত করে রহিমুদ্দিনের গালে।
ক্ষতিপূরণ হিসেবে হাতিয়ে নেয় দু'শো টাকা।
এই দু'শো টাকায় বড়বাবুর ক্ষতি কতটা পূরণ হয়েছিলো রহিমুদ্দিন তা জানেনা।
শুধু জানে রহিমুদ্দিন ও তার পরিবারের সদস্যরা কাটিয়েছিলো উপোসী রাত।

মাঝেমধ্যে রহিমুদ্দিন জিরিয়ে নেয় রিক্সায় বসে।
জিরুতে জিরুতে ভাবে সেতো চুরিও করেনা,কারো কাছে পাতেনা হাত।
তবুও কেনো কপালে জুটে তাচ্ছিল্যের ধারাপাত?
একটি ব্যাপার বেশ দাগ কাটে তার মনে।
সন্তানের বয়সীরাও ডাকে তুই সম্বোধনে।

সেদিন শ্রমিকদিবসে বিরানি খাওয়ার লোভে রহিমুদ্দিন গিয়েছিল এক সমাবেশে।
মঞ্চের দিকে তাকাতেই আৎকে উঠে রহিমুদ্দিন।
একি! এই যে সেই বড়বাবু যে কিনা চপোটাঘাত করেছিল তাকে!
বড়বাবু বক্তৃতা দিয়ে চলেছে অনর্গল।
শ্রমজীবিদের জন্য তার সেই কি মায়া!দরদ যেন উথলে পড়ছে!
রহিমুদ্দিন অনুভব করলো,একটি অদৃশ্য হাত যেন চপোটাঘাত করলো তার গালে।
আর এর আঘাতটা বড়বাবুর দেয়া
সেদিনের চপোটাঘাত থেকেও ঢের বেশী।

০৪/০৮/২০১৫ খ্রীষ্টাব্দ।


০৬-০৬-২০২৩
রকমারি থেকে বই কিনুন
মন্তব্য যোগ করুন

কবিতাটির উপর আপনার মন্তব্য জানাতে লগইন করুন।

মন্তব্যসমূহ

এখানে এপর্যন্ত 2টি মন্তব্য এসেছে।

১৯-০৯-২০১৫ ২৩:১৪ মিঃ

জীবন কাটায় কতইনা ভোগবিলাসে!
বারে বসে বিদেশী মদ গিলে গেলাসে গেলাসে।
ঝলসানো মুরগী খেয়ে তৃপ্তির ঢেকুর তুলে।
একবার খোঁজও নেয়না রহিমুদ্দিনদের ঝলসানো পরিপাকতন্ত্রটার।

১৮-০৮-২০১৫ ১২:৪৬ মিঃ

কেমন লাগলো কবিতাটি?