জিষ্ণুর সাফল্য ও ভবিষ্যতের প্রত্যাবর্তন
- সৌম্যকান্তি চক্রবর্তী

মধ্যরাত্রি , আধশোয়া সুপ্রিয়া ;
তন্দ্রাচ্ছন্ন , একটু ঝিমুনি ...
হঠাতই টং টং শব্দ মেসেঞ্জারে
মনে হয় জিষ্ণুর মেসেজ এল !

একটু পরেই ল্যাণ্ডফোনে রিং ,
ইউ এস থেকে জিষ্ণুর ফোনকল ;
মা আমি আসছি তোমার কাছে ,
" বাবা কবে তুই আসছিস বল ? "

মা আমি দেখব কোন জায়গায় ,
বাবা ভেসেছিল হারিয়ে যাবার আগে !
মা তুমি জানতো ট্রেনিং নিয়েছিলাম
সেই সেবারে মধুলিকাদির কাছে !

মা আমি খুব স্টাডি করেছি ....
তাই তো আজ ইঞ্জিনিয়ার আমি !
খুব খুঁজেছি ইউ এস এ তে গিয়ে ,
তবু মধুলিকাদিকে পাইনি আমি খুঁজে ;

মা আজ আমি তোমায় এনেছি ..
কাশ্মীরের এই একরত্তি ফ্ল্যাটে ;
মা , বাবাকে খুঁজতে যাবো আজ
ডেভিডস ডোমের ছাদের উপর উঠে !

নেহাল সিংহের বাড়িতে এসে ,
জিষ্ণু শুনল সমস্ত কাহিনী ...
কি করে ঘটল সেই দুর্ঘটনা ,
সুশান্তের অভিযানের সমস্ত বর্ণনা !

মধুলিকার দেওয়ার সব জিনিস ,
জিষ্ণু করেছে ব্যবহার ....
শুধু সবুজ বোতাম দেওয়া বেল্ট
লাগেনি কাজে তার !

মধুলিকাদি বলে দিয়েছিল ..
খুব বিপদে পড়লেই ...
ঐ বন্ধনী ব্যবহার করবি ,
চরম দুর্যোগ আসবে যখন
সবুজ বোতাম টিপে দিবি !

নেহাল আংকল ও আজ
তার অভিযানসঙ্গী ....
ডেভিডস ডোম কাছে
ঐ খুনে পাহাড়টা ..
যে জিষ্ণুর পিতৃহন্তা ;

নেহাল সিংকে বসিয়ে রেখে
জিষ্ণু চলল পর্বতবাঁকে ;
সব জিনিসগুলো পরে নিল ;
সবুজ বোতামের বন্ধনীটাও ;

হঠাত্ করে ডেভিডস ডোমে
বুঝে গেল বুদ্ধিমান প্রাণীর তরঙ্গ ;
আভালাস আর বরফের স্রোতে
করতে চাইল যাত্রাভঙ্গ !

জিষ্ণু তখন টিপল সবুজ বোতাম ;
পাখীর মতন উড়ল আকাশে ,
নেহাল সিংকে রাখল তাঁবুতে ;
তারপর ফিরে এল বাতাসে !

ডেভিডস ডোমের প্রবেশপথে
জ্বলছে লেসারের আগুন ;
জিষ্ণুর ইচ্ছেতরঙ্গের ফলে
সেই অগ্নি হল নির্বাপন ;

প্রবেশ করল ডেভিডস ডোমে ,
বনতুলসী ,শাল আর বসন্তের সমাগমে ;
মেঝে দুইখানি সবুজ আলোর রেখা
তাকে স্বাগতম জানায় আগমনে !

আর মাঝে ঐ ইচ্ছেপলাশ ...
সময়যন্ত্র কালযন্ত্র এটি ...
মধুলিকাদি এইটা বলেনি তাকে
তাই জিষ্ণু জানে না কিচ্ছুটি ;

সে জানে শুধু ইচ্ছেপূরণ হবে
ঐ পলাশের নীচে যাই তুমি চাও ;
সেও তাই ঐ গাছটির নীচে বলল
বাবা আর মধুলিকাদিকে ...
ফিরিয়ে দাও ফিরিয়ে দাও ফিরিয়ে দাও !

এবার এক অন্ধকার গর্ত ,
ফিরে চলল আরো অন্ধকারে !
নব্বই সালের যেই দিনটিতে
পুরুলিয়ার সেই হাতাবুরু পাহাড়ে !

কে আপনি আমি কোথায় ,
ছোট্ট জিষ্ণু অর্ধচেতনায় ;
মধুলিকা সব ভুলিয়ে দেয় ,
অন্যসময়ে বেঁচে থাকার
যাবতীয় সব স্মৃতি ....

শুধু জাগিয়ে রাখে একটাই স্মৃতি
স্বপ্নের মত ...
সেই ছোটো ফ্ল্যাটে বৃদ্ধ নেহালের
বলা দুর্ঘটনার কথা যত !

বনতুলসী গাছ পেরিয়ে
জিষ্ণু বলে মধুলিকাদি ,
চলো না আমাদের বাড়িতে
মধুলিকা বলে জিষ্ণু বল্ তো
স্বপ্নটা কি দেখলি ?

মধুলিকা বলে তোদের বাড়ি
যাবই তো আর তোর মার সাথে ,
গল্প করব , দুদিন থেকে বাড়ি ফিরব !
জিষ্ণু লাফায় মহানন্দে ইয়েহ !

জিষ্ণুর বাবার কল এল
স্যাটেলাইট ফোন থেকে ...
জিষ্ণু বলল স্বপ্নের গল্প
তার বাবাকে !

সুশান্ত সেন বললেন স্যার
আজ ভাবছি ডেভিডস ডোমে ,
বিপদ অনেক আছে জমে !
তাই ভাবছি কোনো অন্যদিনে
বেরোব আমরা অভিযানে ;

সাড়ে তিনসহস্র বর্ষ ভবিষ্যতে
আনন্দসংবাদ অভিজিতে ;
মধুলিকার আঁখি অশ্রুসজল !
ধরিত্রী তিনের হলে হাততালি প্রবল ;

( শেষ )

সূত্ৰ : - পুজাবার্ষিকী আনন্দমেলার ইচ্ছেপলাশ উপন্যাস ----


০৬-০৬-২০২৩
রকমারি থেকে বই কিনুন
মন্তব্য যোগ করুন

কবিতাটির উপর আপনার মন্তব্য জানাতে লগইন করুন।

মন্তব্যসমূহ

এখানে এপর্যন্ত 0টি মন্তব্য এসেছে।