জোঁক (৩) ... ( পূর্ব প্রকাশের পর )
- বেঞ্জিন বেঞ্জয়েট
ভোলানাথের ছিল না মাথা কি যে ছিল সে সইয়ের পাতা
ভাবি বন্ধক সে, করিয়াছে সই যে, করেনি কাজ ক্ষুদ্র মাথা ।
ভোলানাথে আড়াল হলে জমিদার হেসে বলে পেলুম কিছু ,
যাক না ক'টা দিন বাজাইবো সুখের বীণ মাথা করি উঁচু ।
কেটে গেলো দু'সন চাইলো জমিদারের মন ওই জমিটা ,
মিষ্টি হেসে দিলো ফেঁসে বলিল ছেড়ে দে সাত কাটা ভিটা ।
ওহে জমিদার বাবু করিলেন কাবু কি যে কইতেছেন ইয়া ,
নিছুনু ট্যাকা, ছিল যে লেখা , ছিল তখন পারু মা'র বিয়া ।
জমিদার কহে হেই ভোলা ওহে এই না তোর হাতের সই,
তোরে দিয়ে টাকা ছিল যে লেখা হারাইনি এই সেই বই ।
ভোলানাথে ডুকরিয়ে কাঁদে ... করণের নেই কিছু উপায়ে ,
কপালের লেখা ধারেতে নেয়া টাকা, ঠেকিয়াছিল যে দায়ে ।
এই তো গরীবের জীবন অকেজো আন্দোলন...যুগে যুগে ,
অধিকার হারা ...সর্বহারা..জীবনের গতি নীল কষ্ট ভুগে ।
আছে যার ভুরি ভুরি সেই করে যায় চুরি অনাথের ধন,
শোষিত অনাথ জন সর্বক্ষণ, রাজাগণে করেছে নিয়ন্ত্রণ ।
এ যেন কালান্তরের আচার, হয়না ছাড়, বিঁধে এই প্রাণে ,
শিয়ালের চক্ষু যেন ...কেন ...ওই নিরীহ ছাগের সন্ধানে ।
আমি কেন ভুল ভাবি হাবিজাবি প্রাণীকুলের সে জীবনচক্র ,
ধনীরা গরীব খাবে যেথায় পাবে, একি ঐ চক্রের অনুচক্র ?
আমি যে জোঁকের সাথে দিবারাতে করিয়াছি পুনর্মিলন ,
সাম্যতার কাব্য রচি জাগে অভিরুচি দিতে ভূষা যা হিরণ ।
০৬-০৬-২০২৩
রকমারি থেকে বই কিনুন
মন্তব্যসমূহ
এখানে এপর্যন্ত 0টি মন্তব্য এসেছে।

মন্তব্য যোগ করুন
কবিতাটির উপর আপনার মন্তব্য জানাতে লগইন করুন।