কুতুব আলীর আত্মকথা
- বেঞ্জিন বেঞ্জয়েট
বিশ কোটি সন্তান জন্ম দিয়েছে বঙ্গ জননী ,
মানুষ না করিয়া কলুষিত করেছে এ ধরণী ।
জন্মান্তরেই কেঁদে ফিরেছে হাভাতের চিৎকারে ,
অপূর্ণ বয়সে চলে যেতে হয়েছে মৃত্যুর দ্বারে ।
অর্ধাহারে অনাহারে অর্জন করেছে যারা বিদ্যাধন ,
কুতুন আলী তাহার মাঝেই মানুষ তো একজন ।
তাহারই ভাষায় বলি ... কিছু রঙে ঢঙ্গে ,
বিদ্যা দিয়া কিছুই হয় নাইক্কা এই বঙ্গে ।
কয়েক বছর আগে পাশ করেছিনু বি,এ ... ,
দৌড় ঝাঁপে হয়নি কিছুই তাই করেছিনু বিয়ে ।
চাকরী খুঁজে পাইনি তা ঘুষের কারণে ,
বঙ্গ জুড়ে মানুষ নামে রাক্ষসের তাড়নে ।
বাপের ছিল বর্ডারেতে দুই কাঠা জমিন ,
সম্পত্তিটা আদায় করতে ধরেছিনু আমিন ।
পৈতৃক সম্পত্তি তবু ... মাইরপ্যাঁচের ফ্যারে ,
দেড় কাঠা পাইনু মুই আপন অধিকারে ।
সেই জমিনে দোকান করুম নিনু সিদ্ধান্ত ,
যেমন তেমন দোকান করেই হইনু ক্ষান্ত ।
মোর ক্রেতা গুনে ক'জন এপার ওপার বাসি,
যা কিছু রোজগার হয় তাতেই মুই হাসি ।
হঠাত একদিন বর্ডার গার্ডে করলো শুরু গোলাগুলি ,
পাঁজরেতে লাগল গুলী চোখে দেখনু ঘুলি ।
সেই থেকে অদ্যবধি পঙ্গু হয়ে আছি ,
আজকে মুই দেশের এক নর্দমার মাছি ।
অপরাধ কিছুই নাইক্কা , অপরাধ জন্ম নেওয়া ,
মুই বলি অপরাধ মায়ের জন্ম দেওয়া ।
০৬-০৬-২০২৩
রকমারি থেকে বই কিনুন
মন্তব্যসমূহ
এখানে এপর্যন্ত 0টি মন্তব্য এসেছে।

মন্তব্য যোগ করুন
কবিতাটির উপর আপনার মন্তব্য জানাতে লগইন করুন।