ওয়াক্কাসের আত্মকথা
- বেঞ্জিন বেঞ্জয়েট
চৈত্রের লেশ ধরেই আসে বিলফাটা খরা ,
অনুজের ধর্মই হল বড়দের অনুসরণ করা ।
চৈত্র যা শিখিয়েছে যুগান্তরে মায়ের পেটে ,
তারই অনুসরণে পন্থ বিল সবই যায় ফেটে ।
জ্যৈষ্ঠ শিখিয়েছে আম্র কাঁঠাল পাকাতে ডালে ,
ব্যতিক্রম দেখিনি এর কোন যুগে কোন কালে ।
অনুজেরা বড়দের যা করা দ্যাখে ...,
তাহাই সে জীবন ডায়েরীতে অনুলিপি ল্যাখে ।
করি বর্ণনা তার একটা প্রাক্টিক্যাল প্রমাণ ,
পুত্র ওয়াক্কাস আলি যেন পিতার সমান ।
ঘরে বসি পিতা সাক্কাত চুরির মতলব আঁটে ,
প্রতি রজনীতে চুরি করতে ভিন্ন গাঁয়ে হাঁটে ।
প্রতি রজনী সাক্কাত চোর সরিষার তেল মাখে ,
পুত্র ওয়াক্কাস জিজ্ঞাসিলে সবই বলে দেয় তাকে ।
কেমনে চুরি করতে হয় ...আছে যত কেরামতি ,
সবই বলে ওয়াক্কাসকে 'না বুঝিয়া' নিজের ক্ষতি ।
কালের ব্যবধানে চোর সাক্কাত করেনা আর চুরি ,
গোপনে ওয়াক্কাস উঠিছে গড়ি হয়ে সে উত্তরসূরি ।
আজ সাক্কাত গৃহস্থ সাজি ভোগে দানাপিনা ,
এহেন হেরিয়া ওয়াক্কাসের চোখে লাগে বড় ঘৃণা ।
সে যে আজ বড় চোর পিতা তো বোঝে নাই ,
চুরির কৌশল শিখায়েছে পিতা ইহাতে বিতর্ক নাই ।
আজ পিতা পরহেজগারি ডাকে সদা ওই সাঁই ,
যাহা রুজি তাহাই ভোগ ইহাতে তার আপত্তি নাই ।
হঠাত একদিন আসিল খবর সাক্কাতের কানে ,
ওয়াক্কাস আলি ধরা খেয়েছে কান্দিনগর স্থানে ।
চুরির দায়ে ধরা খেয়েছে ভেঙে দিয়েছে দু'টি হাত ,
এহেন খবর শুনিয়া পিতার ঢোকে না উদরে ভাত ।
ছুটে গেলে পিতা সেথা ... জনগণ বলিয়া কথা ,
দশজন মিলি পিতার বুকে দশ লাঠির দিলো ব্যাথা ।
এহেন ব্যাথা পেয়ে সে পিতা মুহূর্তেই গেলো মরি ,
এতিম ওয়াক্কাস পুঙ্গ হয়ে ছাড়া পেলো পায়ে ধরি ।
০৬-০৬-২০২৩
রকমারি থেকে বই কিনুন
মন্তব্যসমূহ
এখানে এপর্যন্ত 0টি মন্তব্য এসেছে।

মন্তব্য যোগ করুন
কবিতাটির উপর আপনার মন্তব্য জানাতে লগইন করুন।