বিসর্জন
- ফাইয়াজ ইসলাম ফাহিম

জীর্ণ-জীর্ণ উলঙ্গদেহে
চলেছে ফকির চলছে,
আল্লাহ্-আল্লাহ্ ওগো মা
আর কি যেন বলছে!

সাহায্য কর মা একটু
নেই যে মোর কিছু,
ভাগ্য মোর এত খারাপ
ঋণ ধরেছে মোর পিছু?

বাড়ি-ঘর সব বিকিয়ে
করেছি ঋণ মুক্ত,
তাই আজ অভাবে পড়ে
এই অসামাজিক কাজে
হয়ে গেছি যুক্ত!

বড় ছেলে করিম মিয়া
ভুলে গেছে মোরে,
সে এখন বাস করে
ঢাকার ঐ অদূরে।

ছোট ছেলে কায়েছ মিয়া
থাকে শশুড় বাড়ি,
আর মোর স্ত্রী কাজ করে
মানুষ এর বাড়ি-বাড়ি!

আর আমি বৃদ্ধ মানুষ
কাজ করতে পারি না,
তাই তো আজ এই
অসামাজিক কাজ ছাড়তে পারি না?

দেও মা একটু ভিক্ষা
কি কন গো ফকিরের ব্যাটা
যাও এখ্যান থাকি,
তোমার জন্য মোর সোনা-ময়না
ঘুম থেকে উঠল জাগি!

বৃদ্ধ ফকির হকচকিয়ে
করল বাড়ি ত্যাগ,
সারাদিন কিছু-ই পায়নি
খালি ছিল যে তার ব্যাগ?

দিনশেষে বাড়িতে এসে
হাঁক ছাড়ল কই-গো করিমের মা,
বৃদ্ধ ফকির হতাস হল
কোথাও পেল না রা ।

খুজতে খুজতে বৃদ্ধ ফকির
হয়ে গেছে হয়রান,
সন্ধ্যা প্রদীপ নিয়ে এসে দেখে বুড়ি
আম গাছের ডালে
ফাঁস লাগিয়ে সপেছে নিজের প্রাণ।

বৃদ্ধ ফকির চিৎকার করে
পড়ল মাটিতে লুটে,
আশ পাশের পাড়া-প্রতিবেশী
সবাই আসল ছুটে?

গ্রামের মানুষ করিম-কায়েছ
কে পাঠাল মা-বাবার মৃত্যু সংবাদ,
তা শুনে!
নিজ গ্রামে ফিরে এল তৎক্ষণাৎ।

করিম-কায়েছ দুই ভাই
কাঁদে গলা ধরি,
আমাদের জন্য মা-বা গেল মরি!

এই বলে দুই-ভাই
ধরল মা-বাবার পা,
গ্রামের মোড়ল মজনু বলে
যা তোরা এ্যাখান থাকি যা?

কুলাঙ্গার-স্বার্থপড়
রাখলি না মা-বাবার খবর,
আজ কেন দিতে চাস
তাদের কবর।

নিজের জীবন বিসর্জন দিয়ে
করেছে তোদের মানুষ,
আজ নিয়ে কি তোদের হল হুশ.....


{মা-বাবা আছে যার!
পৃথিবীর মধ্যে তার মত
সুখি নেই কেউ আর}


০৬-০৬-২০২৩
রকমারি থেকে বই কিনুন
মন্তব্য যোগ করুন

কবিতাটির উপর আপনার মন্তব্য জানাতে লগইন করুন।

মন্তব্যসমূহ

এখানে এপর্যন্ত 0টি মন্তব্য এসেছে।