প্রত্যেক তারাই ইনসমনিয়াক, আমার মত !
- দন্তস্য সিফাত
জরাগ্রস্ত পৃথিবী সূর্যকে ফেলে উল্টে গেলে সেই চিলেকোঠায় সন্ধ্যা নামে;
তারারা মিছিল করতে করতে কালো আকাশে জড়ো হয়।
তারাদের সমাবেশে আজ 'মৌনতা ও অসহায়ত্ব' এর উপর গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য রাখবেন মহামান্য চাঁদ !
সংক্রামক অস্থিরতা মানব সম্প্রদায় থেকে তারাদের মাঝেও সংক্রমিত হয়।
সমগ্র আকাশ জুড়ে ছুটাছুটি করে
তারা মানব জাতিকে ধিক্কার দেয়।
অবলা জোনাকি গুলোও বাদ যায় না,
নিজেদের 'তারা' সম্প্রদায় এর মনে করে এরা সমাবেশে নীতিগত সমর্থন জানায়।
পূর্বাকাশের কুয়াশার পর্দা সরে গেলে মহামান্য চাঁদ এসে মেঘের আসনে আদিষ্ট হন।
তারাদের নেতা শুকতারা নালিশ জানান যে,
রাত থাকবে চাঁদ তারার দখলে, দিন মানুষের।
কিন্ত, রাতে তাদের চেয়ে নির্ঘুম অসুখি কিছু মানুষের আধিপত্য বেশি।
এই ঘটনার তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে সম্মিলিত 'আমতারা' স্লোগান শুরু করলে তাদের সাথে ঝি ঝি পোকারাও সুর মেলায় !
'জমিনের কিছু মানুষের ঘুম আসে না ।
রাত গভীর হলে একা মানুষ গুলো নিজেকে খুঁজে নিজের মধ্যে।
শেষমেশ, সুখ খুঁজতে গিয়ে স্মৃতির সাগরে ডুব দিয়ে কিছু শামুক ছাড়া কিছুই পায় না।
ঘুম সময়ের সাথে ব্যাস্তানুপাতিক হারে দূরে যায়। '
অন্যদিকে, তারাদের সমাবেশে অধিকার আদায়ের দাবি প্রবল হতে থাকে।
দাবি আদায়ের জন্যে তারারা জ্বল জ্বল করতে থাকে।
আবার ফিরে আসি মাটিতে,
মানুষেরা গভীর আবেগে বুকে বালিশ চেপে তাকিয়ে রয় সেই আকাশে,
তাদের চোখের তরল দুঃখ অনেকটা আলো ছড়িয়ে দেয়, স্বয়ং চাঁদ তা দেখে সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেন।
'আজ থেকে রাতের অধিকার সেই অভাগা মানুষদের ও দেয়া হলো, তারাদের সাথে এরাও রাতের নীরবতায় লীন হবে। রাত জাগা এই মানুষ গুলো যেন জমিনের একেকটা তারা !'
০৬-০৬-২০২৩
রকমারি থেকে বই কিনুন

মন্তব্য যোগ করুন
কবিতাটির উপর আপনার মন্তব্য জানাতে লগইন করুন।