ফাঁদ
- আরিফুল হক দ্বীপ

ভালোবাসা!
তিনটি বসন্ত যে শুধু দিয়ে গেছে অবহেলা,
খেতে,ঘুমোতে লাঠি আর ঝাঁটার বারি
হৃদয় বিদীর্ণ করা সব গালি-
অজস্র বিদ্রুপে ন্যূজ মাথা রমণী তবু,
রুগ্ন স্বামীর শিয়রে বসে পাঠ করে কোরআন।
কতো ঋণ,কতো ঋণ!
চিকিৎসা করাতে স্বামীর কতোযে হলো দেনা।
কিছু ঋণে বাগে পায় তারে
অশ্লীল মানুষের চোখ!
এমনো গেছে রাত,স্বামী বকছে প্রলাপ
স্ত্রী পায়ে বাঁধছে নূপুর,
নতুন শাড়ি,কাচের চুড়ির রুনঝুন শব্দ,
আয়নায় দেখে মুখ মাখছে প্রসাধন।
একদিকে মুমূর্ষু মানুষের ব্যথিত রোদন,
অন্য পাশে চলে ঋণ পরিশোধ!
অবলার সম্ভ্রম নিয়ে করে উল্লাস অশ্লীল সভ্যতা।
ভিটেটার মায়া!
নিজেকে বিলিয়েও আঁকড়ে ধরেছে স্বপ্নের ঘর।
মৃত্যুর শয্যা থেকে মাথা তোলে দাঁড়ায় প্রিয়,
প্রিয়ার হাসি-
লুকোয় চাঁদ লাজে মেঘের চাদরে।
ভাত চেয়েছে সদ্য সেরে ওঠা মানুষ,
রমণীর মনে রোদের ঝিলিক,
এমন কোমল শান্ত গলায় কবে ডেকেছে তারে?
নিজের হাতে তুলে দেয় অন্ন,জলের গ্লাশ
ধরে মুখে,পাষন্ডের চোখেও আজ অনুশোচনার অশ্রু।
আর
রাত পোহালেই চুকে সমস্ত হিসেব নিকেশ
বিগত ভালোবাসার।
ভুলে যায় রমণীর অফুরন্ত ঋণ।
ভুলে যায় অবলার নিঃস্বার্থ ভালোবাসা।
ঘিরে ধরে চারদিক সমাজের কীটেরা,
নষ্ট মেয়েকে রাখা নয় এ তল্লাটে আর-
স্বামীর চোখে ঘৃণা,থুতুর দলা শরীরে ছুঁড়ে
নাপাক!নাপাক!
নিজেকে শুদ্ধ করে আসে পবিত্র জলে।
তারপর...
অজানা পথে বালা-
অশ্রুশূন্য আজ চোখ,বড় অভিমান,
কোথায় যাবে?এই পেলো ভালোবাসার প্রতিদান।
পথের ধারঘেঁষেই ওৎ পেতে থাকা দালাল,
দেখায় স্বপ্ন বেঁচে থাকার,
সুমিষ্ট হেসে বলে,'চলো,দেখাই তোমায় পৃথিবী।'


০৬-০৬-২০২৩
রকমারি থেকে বই কিনুন
মন্তব্য যোগ করুন

কবিতাটির উপর আপনার মন্তব্য জানাতে লগইন করুন।

মন্তব্যসমূহ

এখানে এপর্যন্ত 0টি মন্তব্য এসেছে।