সর্বশেষ কৃত সমালোচনা
- তানজির উদ্দিন - মহল ও মোহন পাপী
মেঘ ও নারী , জল ও মেঘ , বৃষ্টি ও অঝোর কান্নায় ভেসে আসা
কয়েকটি প্রতিচ্ছবিতে তুমি এবং আমি একসাথে গহীন হতে জেগে
প্রলুব্ধ অন্বেষে মিশে গিয়েছিলে সুদূর নীহারিকার অন্তরালে
একদা ,
বন্ধুদার কপাল ছুঁয়েছে মেঘ
বন্ধুতার পীড়নে মেঘের গরজন
এলোকেশী মেয়ে চক্ষু উন্মীলনে ঋষি সেজে
বহুক্ষণের গুঞ্জন সেরেছে মেঘের দেশে এই শ্রাবণে
তবু তা ছিল কল্পলতায় বুনো পাপড়ি দোলায় বাসন্তীর তরে
চূড়ায় বসেছে পাড়ি দিতে নক্ষত্রের দেশে , যেন অলৌকিক রাজলক্ষী শ্রাবণে ।
মেঘ ও জল , অন্তর্গত মিলনের পথে
ছুঁয়ে দিয়েছে লক্ষীর বনবাস বনে উপবনে
প্রক্ষিপ্ত প্রেমের আবর্তন চেয়েছে পালাতে
নক্ষত্র রাজ্যের লক্ষী , বাসন্তী নেয়ে চলো
এই শ্রাবণে
ঘরকন্নার পর তুলসী ছোঁয়া প্রেম নিয়ে
জোছনারা হাঁটে বসে প্রেম বিকোয় রাতে
নিরব নিঢোল শুভ্রা লক্ষী গান গায় তাই
নিবিড় প্রেম খেয়ালে , ছাদে , জোছনা রাতে
মহল্লায় আড্ডা জমে প্রেম জানে মৃত্যু মুখ
শতাব্দী জানে পালাবদলের খেলা অধরায়
বিস্তৃর্ণ করে শ্যামলী অনুরাগে আজ এই
শ্রাবণ বেলা শেষে
পৌষের ডাকে তায়
ফিরেছে মেঘ লক্ষী ফোঁটা হয়ে তৃণের ডগায়
সকালে বিকেলে বনে উপবনে ঝোপে ঝাড়ে জঙ্গলে
রাত্রিরে বসে চাঁদের হাঁট ওদের উপবনে ছাদে ফুলের সমারোহে
হারমোনিয়ামের মোহনীয়তা
এক কালের জড়ানো লাবণ্য
ভেঙ্গে ফেলা সুর অন্তর্লীণ
প্রত্যেহ সকালের অনুরণনে জোছনার আবর্তনে
শ্যামলী ছেঁয়ে আসা প্রাণের মাঝে শুন্যতা বসে
ছবি দেখে উপড়ে ফেলা পঞ্জিকার পাতায় চেয়ে
ছেলে মানুষী করলে বড় ফিরে গিয়ে গহীনে আজ
মায়াবী অন্বেষে স্থির জোছনার হারানো পথে
নীহারিকার পর পৃথিবীর প্রান্ত ঘেঁষে এই
শ্রাবণ শেষে
পৌষের দেশে
মাঘের চাদরে হারিয়ে ফেলা কয়েকটি স্মৃতি
কুয়াশা হয়ে ফেরে জাদুর মতন মন ভোলা
সকাল বেলায় ফুটতে থাকা জল মাঘের বেলা
চুলোয় , এলোকেশী মেঘ বরণে ছেয়ে থাকে
র্লীণ হয়ে যাওয়া
অস্ফুট রোদন
মাঘের বিদায়ে
সাজিলে বিরহ বসন্ত রাতে ফুলে ফুলে আঙ্গিনায়
অধীর অপেক্ষায় চেয়ে থাকা স্মৃতি শীতের রাতে
পূর্ব রোদন বার্ধক্যে এসে বাজিলে লোনাজল ফেলে
নীরব খুনসুটির দিন
বাবার ডাক প্রত্যুষে
মায়ের চেয়ে থাকা
অপেক্ষার ক্ষণগুলো ফুরিয়ে এক এক করে
তবু ,
এই বসন্ত এসেছে নেয়ে
আমার ঘরে ,দোরে ,আঙ্গিনে
মেঘ লক্ষী জলের তোড়ে চায়
চোখের কাজল মুছে আকাশে
কারা যেন ডাকে
পাখিরা কি গায়
বাতাস চলে বহে
অনাগত শিলালিপি ছুঁয়ে শ্রোতা আমি তাই
শুনে যাই , ওরা গায় , যার স্বরলিপি দেখিনি
শুনিনি আগমণ ধ্বনি তারি
যার প্রতীক্ষায় ছুটি আঙ্গিনে
এই এলো বলে জোছনা রাত
মধুর হলো প্রতিজ্ঞায় আমার
মেঘ ছুঁয়ে গেলো তারি ডাকে
মায়ের চেয়ে থাকা , মাটিতে
এখন বাবারা ঘুমিয়েছে তাই
সেই ডাক আজো শুনিনি ছাদের জোছনারা নিয়েছে বিদায়
ভেঙ্গেছে সুরবাদ্য অনাগত প্রজন্ম চেয়েছে প্রেম , দিয়েছে দায়
তারপর রেখে চলে গিয়েছে সূদূর নীহারিকা নক্ষত্র পুঞ্জের দেশে ।
শেষ করে ফেলো এই সোপান
শীর্ষদেশে বসে বসে প্রহর গুনি
ফ্লাটের দরজায় কে যেন আসে
উঁকি দেয় , ভুলিয়ে দেই বাক্যে
ভিতরের ক্ষত ও দেখলে না কোনদিন যদিও বহু রাত কাটিয়েছি
তুমি আমি , তুমি ও জলের দেশে নারীর মুখ চেয়ে পাশাপাশি
রোদন করে সমাপ্তির বিন্দুটি এখনো আসেনি যদিও দুঃখ ছুঁয়েছে আজ
বসন্ত চলে এসেছে তারপর ফিরেছে
আপনার আঙ্গিনা পড়ে রলে ওমনি
শুন্য ভালোবাসার ঘরে থেকে দুংখের
অমনিবাস গড়ে যাই প্রলুব্ধ বচনে আমি
খোকার মুখে খুকির ফ্রকের কোণে এই
স্মৃতিখানা রেখে দিয়েছি গভীর প্রেমে
ওহে মেঘ শ্রাবণ ফিরে এসো এসো আজ
তোমায় চেয়ে মেঘ লক্ষী মিটাবো তাই
বাসন্তী উন্মনা ঋতু পালাবদলের খোঁজে
গ্রীষ্ম হতে আষাঢ় ,
শরত্এর পর হেমন্তে
মাঘ হতে বসন্তে
বসন্তের পর চেয়ে
নিভন্ত সূর্য পরে
কয়েকটি ডাক অশ্রুতে গেঁথে হাসবো আজো
আমি বাসন্তী , বসন্ত লক্ষী মেঘ নেয়ে
রোদন আমাকে কি মানায় !
সিঁড়ি বেয়ে উঠতে থাকি এখন
তেতলায় বাবার মুখ জ্বর ঘোর
মায়ের চেয়ে থাকা ,
বোনের আনাগোনা
ভাইয়ের হারিয়ে যাওয়া দূরে
টেবিলে বসে থাকা বাবাইটা
সহসা চিত্কার জুড়ে দিলে এই
মধ্য দুপুরে ঝিক মিক
রৌদ্দুর ছাওয়া তাই
জালানার ফাঁক গলিয়ে উঁকি দেয়া ম্রিয়মান শোকব্যথা
মনের নিবিড় ঘুমন্ত প্রেতাত্নারা একে একে শরীক
লাশের মিছিলে
চোখ বন্ধ করে
পুঁতে দিলে জোছনার মায়াবী রোদন এসে
তখনো ফিরেনি ওরা যারা ছিল বহুদূরে ।
০৬-০৬-২০২৩
রকমারি থেকে বই কিনুন
মন্তব্যসমূহ
এখানে এপর্যন্ত 0টি মন্তব্য এসেছে।

মন্তব্য যোগ করুন
কবিতাটির উপর আপনার মন্তব্য জানাতে লগইন করুন।