চিঠি-১
- শাওন সারথি - চিঠিপত্র

শিরিষ দাস লেন, ঢাকা
সময়- ১২/০২/২০০৫ইং
১২.৪৬ রাত্রি
প্রিয়
অহনা বিনতে জাহা।
আশা করি সৃষ্টিকর্তার কৃপায় ভালোই আছো। অনেকদিন হইল তোমার কাছে পত্র লিখিব লিখিব করিয়া আর লেখাই হইয়া উঠে না। নানাবিধ আর্থ সামাজিক কাজের এতই ব্যস্ততা যারপরনাই যে দুদণ্ড শান্তিতে বসিয়া টেবিল চাপড়াইয়া দুচার কলম লিখিব তার আর কোন সাধ্য হইয়া উঠে না। এমনিতেই আপিসে অনেক কাজ তারপরে বাসায় ফিরতে ফিরতে সন্ধ্যেটা পার করে আসি। হরিবলের দোকানে হুক্কাটায় একটা সুখটান না দিলে যে আমার রাতের খাবার হজম হয় না তাতো তোমার জানাই আছে। সন্ধ্যেটা পার করবার অবশ্য আর একটা লাভ আছে আর তা হল অন্তত প্রদীপের খরচ টুকু বাঁচে। গতকাল বাড়ির বাড়ির পাশের কদম গাছটায় কদম ফুটেছে। কি আশ্চর্য! ওর ফোঁটার কথা বরষায় আর ও কিনা ফুটল গ্রীষ্মে। মাঝে মাঝে ভাবি প্রকৃতিও মাঝে মাঝে আর নিয়ম মানিয়া চলিতে চায় না। সেদিন আমার রুমের পলেস্তার খুলিয়া প্রায় হাড্ডিসাড় অবস্থা! সপ্তাহ খানিক না খাইলে বুকের পাঁজর যেমন গুনা যায়, প্রত্যেকটা ইট মনে হয় তেমনি গুনা যায়। হে হে অবশ্য ডান পাশের দেয়ালটায় মোট ৫৩৩টা ইট আমি গুনিয়াও নিয়াছি। গতকাল রাত্রে চাঁদ খুব কাছে আসিয়াছিল। এর আগে এমনটি নাকি খুব কমই ঘটিয়াছিল! তখন তোমাকে দেখিবার খুব ইচ্ছে জাগিয়াছিল। মনে আছে আমাদের বিয়ের রাত্রে চাঁদ দেখিব বলিয়া আমরা দুজনায় কতটা পথ অতিক্রম করিয়াছিলাম অন্ধকারে? তারপর খুব সকালে দুজনায় মুগ্ধাবেশে স্নান করে শুদ্ধ হয়েছিলাম। সেই রাত্রে আমার এতটুকুও ভয় জাগেনি। কিন্তু গতকাল প্রচণ্ড ভয়ে ছিলাম। অনেক দিন হইয়া গেল একা একাই চাঁদ দেখবার বায়না করি তবু অন্ধকারে হাঁটবার সাহস হইয়া উঠে না। ভয় জাগে। এই ভয় কি মৃত্যু নাকি অন্য কিছু? জানি না। চাঁদের আলো কিন্তু ক্রমশই বাড়তে থাকে। ভালো থেকো আর ভালো থাকিবার প্রেরণা পত্র মারফৎ অতি সত্ত্বর জানাইও।

ইতি
গদ্য


০৬-০৬-২০২৩
রকমারি থেকে বই কিনুন
মন্তব্য যোগ করুন

কবিতাটির উপর আপনার মন্তব্য জানাতে লগইন করুন।

মন্তব্যসমূহ

এখানে এপর্যন্ত 0টি মন্তব্য এসেছে।