পুকুরপাড়
- আবরার আকিব - মধ্যরাতের কিছু গল্প

তিমির রাত্রি, নিস্তব্ধ কোলাহল নির্জন প্রান্তরে,
একখানি মশাল জ্বেলে বসে আছি পুকুরপাড়ে।
হাতে একখানি কবিতার খাতা।
খাতাজুরে ছিল যে কালির শূন্যতা।
ভাবছি লেখবটা কী গল্প না কবিতা।
ভাবছি আমি হতে চাচ্ছি টা কী মস্ত বড় কবি ;
নাইবা কেন খাতা খুলে ভাবছি এসব হাবি-ঝাবি।
এমন সময় এক হাসির শব্দ আসলো যে ভেসে,
ভয়ে জরসড় হয়ে গেলাম আমি পুকুরঘাটের পাশে। দেখলাম যেন এক নারী মূর্তি ঘাটেতে পা দুলিয়ে আছে বসে।
আমি কে গো তুমি?
বলল যে সে, তুমি চিনবেনাযে কে যে আমি,
বললাম আমি কোথায় যেন দেখেছিলাম পরছেনা ঠিক মনে।
বলল সে হেসে- হেসে, এই ঘাটে দিছিলাম ডুব বছরখানেক আগে।
আমি বললাম বলছ কেন মিছে?
তুমি যে মারা গেছ বছরখানেক আগে।
বলল সে আমি মরিনিগ মরিনি,
আমায় যে মেরে ফেলা হয়েছে।
বললাম আমি তুমি নাকী মহাপাপী?
সেজন্যে নাকী এ ঘাটে ডুবেছ মরে?
বলল সসে হেসে- হেসে তুমি কী শুনবে তবে?
আমি বললাম আমার কবিতা লিখতে হবে যে,
তবুও বল শুনি এই গাঁয়ের এক চাষার ছেলে, নাম যে তাঁর সুজন,
ভালবেসে ঘর বাঁধতে চাইছিলাম মোরা দুজন।
এই পুকুর পাড়েই সুজন বসে বাঁজাইত যে বাঁশি,
বাঁশির সুরেই হয়তো একদিন তার প্রেমে দিলাম ফাঁসি। স্বপ্নগুলো সাজাতাম মোরা পুকুর পাড়েই বসে।
এমনি এক গভীর রাতে ডাকলো সে আমায় বাঁশির সুরে,
রাত টা পোহাতেই যাই যেন আমি পুকুর পাড়ে। ভোরবেলায় গেলাম আমি পুকুর পাড়ে ।
দেখলাম সুজন আমগাছেরি একটি ডালে,
গলায় দিয়ে দড়ি মনের সুখে আছে ঝুলে।
তাই বলে কী আমায় মরতে হবে।


০৬-০৬-২০২৩
রকমারি থেকে বই কিনুন
মন্তব্য যোগ করুন

কবিতাটির উপর আপনার মন্তব্য জানাতে লগইন করুন।

মন্তব্যসমূহ

এখানে এপর্যন্ত 0টি মন্তব্য এসেছে।