শেষ চিঠি
- নাহিদ সরদার

শেষ চিঠি
মো: নাহিদ সরদার
ভাঙা কুটির থেকে বাবা বলছিলাম
কেমন অাছিস-রে খোকা?
বউমা আর আমার দাদু ভাই কেমন আছে?
দাদু ভাই স্কুলে যায় তো- খায়তো ঠিকমতো
দাদুকে মানুষ করিস- মূর্খ হয়না যেন
এই মূর্খতা বাপ বেটার সম্পর্ক যে কতটা
দূরে ঠেলে দেয় সেটা তোর থেকে
কে আর ভাল বুঝবে বল।
জানিস খোকা সেদিন কি হলো
প্রচণ্ড ঝড়,সেই সাথে বজ্রপাত
হঠাৎ হলো কি
তুই অামার বুকের যে পাশে মাথারেখে
গল্প শুনতি সেই বাম পাশে
কিসের মটমট শব্দে যেন খামছে ধরল
পরে দেখি ঘরের উত্তর পাশের চালটা ধসে গেছে
বাইরে ঝমঝম বৃষ্টি আর বৃষ্টি
আমি তোর মা আর অাজন্ম পাপি বোনটা
রাতটা পার করেছি কোনোমতে।
চিন্তা করিস না খোকা
এখন ঘরে টালি ফেলে নারকেল পাতার
লেওয়া আর পলিথিন দিয়ে ছাওনি দিয়েছি।
এখন আর আকাশ দেখতে বাহিরে যেতে হয়না
ঘরে বসেই আকাশ দেখা হয়
কত ভাল তাই না বল?
বুকের বামপাশটা একটু বেশি ব্যথা করে ইদানিং
কিডনির পাথর গুলো যেন আর স্থির থাকেনা
বড্ড বেশি ব্যথাদেয়,-রে।
জানিস যখন তোকে বাম বুকে রেখে
গল্প করতাম বুকে ভর দিয়ে
শত শত নারকেল গাছে চড়তাম
অন্যের জমিতে কামলা খাটতাম
শুঁধু তোঁকে ভাল রাখার জন্য
একটুও ব্যথা করেনি তখন
অথচ এখন!
এখন প্রতিদিন বমি হয়, ব্যথাও করে।
চিন্তা করিসনা আমি ওষধ খাই
যে-যা দেয়, দু-দশটাকা হাত পেতে নেই
আমার মোটেও খারাপ লাগেনা
আমারও তো বাঁচতে ইচ্ছে করে।
তুই একটু আসবি খোকা
মরার আগে তোকে একটু দেখতে চাই
ভয় করিসনা আর ওষধ লাগবেনা
ও গুলো এখন আর কাজ করেনা আগের মতো
শুঁধু সাথে করে তিন টুকরার এক কাপড় আনিস
সাদা কাপড়।
ভাল থাকিসরে খোকা তোঁদের ঐ সাহেব পাড়ায়,
চিঠিটা পেয়েছিল খোকা বিশটি বছর পরে
ছেলের কিনে দেওয়া পুরনো পঞ্জাবির
পকেটে।


০৬-০৬-২০২৩
রকমারি থেকে বই কিনুন
মন্তব্য যোগ করুন

কবিতাটির উপর আপনার মন্তব্য জানাতে লগইন করুন।

মন্তব্যসমূহ

এখানে এপর্যন্ত 0টি মন্তব্য এসেছে।