কবি তৈমুর মল্লিক এর "সময় হয়েছে ফিরে যাবার"
- রফিকুল ইসলাম রফিক

যুগ যন্ত্রনা, সময়ের যাতনা শিল্পীমন ধারণ করবেই। তেমনি এক যাতনার নিপুণ জীবনচিত্র কবি তৈমুর মল্লিকের কবিতা "সময় হয়েছে ফিরে যাবার"।
সময়ের নানাবিধ অসঙ্গতির বিষবাষ্পে জর্জরিত আজ মানব জীবন। তাই তো মানুষের যাপিত জীবনাকাশে রংধনু থাকলেও তা অবগাহনে অপরিপূর্ণ, অগোছালো বড্ড এলোমেলো। সে আকাশের বিষবাষ্প মিশ্রিত নিষ্ঠুর সুর্যতাপ বিষিয়ে তুলেছে জীবনকে। তাই তো কবি বলেন--
"এঁকে চলা জীবন চিত্রে রঙধনুর আবগাহন হলো এলোমেলো ।
নয় কি আসর
নয় কি বাসর"
কিন্তু রাতের আঁধার এক সময় শেষ হয়ই। ওঠে সকালের সোনামাখা রোদ। অমাবস্যার কাল শেষ হয়ে এক সময় উদিত হয় পূর্ণিমার চাঁদ। মানুষ আশাবাদী হয়ে ওঠে। সে ফিরে পেতে চায় বাঁচার আশা, ভালোবাসা। বেদনাভরা মন তার হয়ে উঠতে চায় আনন্দে পূর্ণ। এই তো আমাদের মানব জীবন। কবির ভাষায় --
"ধীরে চলা প্রবাহে আবার হাসবে এই ধরণী নিজের মতো
পল্লবিত হবে পাতা ঝরা গাছ নতুন আশায় ।
খণ্ডিত নয়
মণ্ডিত নয়
পূর্নাংগ রূপে নীলাকাশের বক্ষে লালিত হবে পূর্ণিমার চাঁদ
কোন এক সন্ধিক্ষণে প্রেয়সীর খোঁপায় শোভিত রক্ত জবা ।
ছুটে চলা
কথা বলা
সময় চলবে আপন মহিমায় একাগ্রতায় একান্ত ভালোবাসায়
চলন্ত বাসনায় ফিরবে আবার প্রতিটা সকাল আর কপলের তিলক ।"

এর পরেও কথা থাকে। সময়ের ডাকে জীবন থমকে দাঁড়ায় জীবনের বাকে। কাঙ্খিত চাওয়া পাওয়া যেনো থেকেই যায় দূরে। ভুক্তভোগী মানুষ তা টের পায় হাঁড়ে হাঁড়ে। এদিকে সময় পার হয়ে যায় তার নিজস্ব গতিতে। বেদনাদগ্ধ মানুষ আবার হয়ে পড়ে আরো বেশি বেদনাদগ্ধ। কারন জীবনের মধুময় সময় ফিরে এলেও সে ভোগ করতে পারবে না এই ভেবে। কারন তার সময় শেষ। সে তখন জীবন নদীর শেষ খেয়ার চড়ে ওপারের যাত্রী। এই আমাদের মনব জীবন। তাই তো কবির আর্তনাদ --

"শুধু থাকবেনা
শুধু বলবেনা
এ মধু সময়
এপারের সন্ধ্যা ক্রমান্বয়ে ওপারে দিকে ধাবমান শেষ রাতে
আর অপেক্ষা নয় তৃষিত নয়নে সময় হয়েছে ফিরে যাবার ।"

আশা নিরাশার এই নিদারুণ খেলা চলছে আমাদের মানব জীবনে তারই এক নিখুঁৎ জীবন ছবি অনবদ্য কাব্যিক মহিমায় তুলে ধরেছেন কবি। এখানে হয়েছে মানব জীবনের সত্য চয়ন। কিন্তু সব সত্যই কাঙ্খিত নয়। অন্তঃত জীবন শিল্পীর নিকট থেকে। এমনিতেই মানুষ নানাবিধ জীবন যন্ত্রনায় জর্জরিত ক্ষত বিক্ষত। হতাশায় সে চায় আশার আলো। যা এই কবিতার প্রথম দিকে পূর্ণরূপে বিদ্যমান ঠিকই। কিন্তু শেষের দিকে যখন মধুময় সময় আগত প্রায় তখন তাকে সময় শেষ হয়ে যাবার ভয় ধরিয়ে (যা প্রকৃত সত্য) দেবার বিষয়টি হতাশাগ্রস্থ মানুষ আশা করে না। তবে সব মিলিয়ে এই কবিতাটি কবির একটি অনন্য সৃষ্টি। প্রিয় পাঠক নিচে কবির পুরো কবিতাটি তুলে ধরলাম।

সময় হয়েছে ফিরে যাবার
তৈমুর মল্লিক
-------------------
কাঁদতে দেখিনি আমি বাসনার তপ্ত বালুকণার বাসর রাতে
এঁকে চলা জীবন চিত্রে রঙধনুর আবগাহন হলো এলোমেলো ।
নয় কি আসর
নয় কি বাসর
ধীরে চলা প্রবাহে আবার হাসবে এই ধরণী নিজের মতো
পল্লবিত হবে পাতা ঝরা গাছ নতুন আশায় ।
খণ্ডিত নয়
মণ্ডিত নয়
পূর্নাংগ রূপে নীলাকাশের বক্ষে লালিত হবে পূর্ণিমার চাঁদ
কোন এক সন্ধিক্ষণে প্রেয়সীর খোঁপায় শোভিত রক্ত জবা ।
ছুটে চলা
কথা বলা
সময় চলবে আপন মহিমায় একাগ্রতায় একান্ত ভালোবাসায়
চলন্ত বাসনায় ফিরবে আবার প্রতিটা সকাল আর কপলের তিলক ।
শুধু থাকবেনা
শুধু বলবেনা
এ মধু সময়
এপারের সন্ধ্যা ক্রমান্বয়ে ওপারে দিকে ধাবমান শেষ রাতে
আর অপেক্ষা নয় তৃষিত নয়নে সময় হয়েছে ফিরে যাবার ।


০৬-০৬-২০২৩
রকমারি থেকে বই কিনুন
মন্তব্য যোগ করুন

কবিতাটির উপর আপনার মন্তব্য জানাতে লগইন করুন।

মন্তব্যসমূহ

এখানে এপর্যন্ত 0টি মন্তব্য এসেছে।


slot gacor 2026 slot gacor situs slot gacor 2026