চিঠি-২
- শাওন সারথি - চিঠিপত্র

৩৮ বাংলাবাজার, ঢাকা।
সময়- ০৩/০৮/২০০৫ইং
১২.১১ রাত্রি

প্রিয়
অহনা বিনতে জাহা ,

বহুদিন পর তোমাকে পত্র লেখিব বলিয়া মন স্থির করিলাম। তোমার সর্বশেষ পত্র খানা এখনও আমি মাঝে মধ্যে পড়িবার চেষ্টা করি। শরৎকালের শুরু হইয়া গিয়াছে। তোমাকে তো জানাও হয় নাই আমাদের বাড়ির পাশে একটা ছোটখাটো কাশ ফুলের মেলা বসিয়াছে। মাঝে মাঝে সন্ধ্যেটা ওইখানে কাটিয়ে আসি। দিনের বেলায় আপিসের এতোকাজ যে দিনের আলোতে একটু মনঃপুত করিয়া চক্ষু জুড়াইব তার কোন ইয়ত্তা নাই। তারপরও রাত্রি বেলা খুব একটা মন্দ না। কাশফুলের কাছে গেলেই বৃষ্টির কথা মনে পরিয়া যায়। যদিও এই শরতের বেলায় বৃষ্টি হইবার কথা বলা আর প্রকৃতিকে তিরস্কার করা একই কথা। প্রকৃতি তার আপন ভাবনায় তার দিনপঞ্জিকা সাজিয়াছেন সেইখানে উটকো ঝামেলার মত বৃষ্টি চাহিবার দুঃসাহস কেবল তোমার থেকেই পাওয়া। কাশ ফুল যদিও আমার প্রিয় ফুলের তালিকায় প্রথম দিকে নাই তবুও কেন জানি ইহার প্রতি আলাদা একটা অনুভূতি কাজ করিয়া থাকে। মনে হয় অনেক কালের পরিচিত আর অনেক ছন্দে রচিত এর গাত্র। কাশ ফুলের থেকে তার সাদা রঙের প্রতি যে আমার আলাদা একটা ঝোঁক তা তোমার থেকে আর ভালো জানিবার সাধ্য কাহার? আমাদের নানাবিধ আনন্দের সাথে এই সাদা রঙের অস্তিত্ব মিলিত তাহাকে কোন কালেই আর অস্বীকার করার জো আছে? একবার বলিয়া ছিলাম তোমার চোখের দিকে তাকাইয়া “পৃথিবীর যাবতীয় সৌন্দর্য ম্লান হয় তোমার চোখের চাহনিতে”। ভাবিয়াছ ইহা আবার কি বলিলাম? নিশ্চয়ই অতি আবেগে আর না হয় অতি অবাস্তবতায়। তুমি অনেকক্ষণ ভাবিয়া এক নিঃশ্বাসে বলিলে। তোমাকে সেই মুহূর্তেই বলিয়াছিলাম আয়নায় নিজের বদন খানা একবার দেখিয়া নিতে তাহাতেই নিশ্চিতই খুঁজিয়া পাইতে। ভাবছি একটা কাশফুল নিজের কাছে আনিয়া রাখিয়া দিব। আর পত্রের কাগজের ভাঁজে তার একখানি গুঁজিয়া দিব। ভালো থেকো আর ভালো থাকিবার প্রেরণা পত্র মারফত অতি সত্তর জানাইও।

ইতি
গদ্য


০৬-০৬-২০২৩
রকমারি থেকে বই কিনুন
মন্তব্য যোগ করুন

কবিতাটির উপর আপনার মন্তব্য জানাতে লগইন করুন।

মন্তব্যসমূহ

এখানে এপর্যন্ত 0টি মন্তব্য এসেছে।