রক্তচোষা
- বেঞ্জিন বেঞ্জয়েট

তখন আমি হাফপ্যান্ট পড়া কাঁচা নাবালক বেকার ,
সারাদিন ধরে কচুপাতা দিয়ে করতুম শুধু ফড়িং শিকার ।
হঠাত একদিন ইন্তাবুড়োর পুকুরধারে খোকসার গাছে ,
লেপটে আছে সে গাছে, শ্যামল রঙে লেজ তার শুধু নাচে ।
সাথে ছিল সে বেলার সাথী আইমান, ছুঞ্চার মেঝ ছেলে,
বাবা দিনমজুর, চলে যেত দিন আড়াই কেজি চাল পেলে ।
অতসব চিন্তা ছিল না সেকালে, ছিলোনা অনটন বালায় ,
তায় সে রাখতো না নজর ছেলে তার দিন কাটায় খেলায় ।
যাকগে আসি এখন সেই পর্বে ... ওই যে সে রক্তচোষা ,
শরীরের চেহারা যেন ডাইনেসর , নিতান্তই খশখশা ।
আইমানে চিৎকার মেরে আমারে কহে ধর নাভিনাড়ি ,
নাভি না ধরলে ওই বেটা রক্ত চুষে খাবে তাড়াতাড়ি ।
নাভি ধরেই দিলুম দৌড়, সত্য মিথ্যা করিনি যাচাই ,
রক্তচোষা নামে যে প্রাণী আছে তা মম করেছি বাছাই ।

দিন যায় কথা রয় ...!!! খোলে নি আইমানের কপাল ,
বাবা পরপারে , আইমান বয়স্ক, যদিও কেটেছে অনেক সাল ।
আজ আইমান দিনমজুর, পায়না ন্যায্য মজুরি তার ...,
অর্ধাহারে কেটে যায় তার ছ'সদস্যের পুরো সংসার ।
নিরুপায় আইমান , নেই যে তার বসত ভিটে ,
যেথা তার বাস, মালিক সেজন, হিসেবী সে পেটেপিঠে ।
শুধু আশ্রয়ের তরে অন্যায় মাথায় , যেন কুকুর পোষা ,
মানুষের সাথে মানুষের বাস তবুও যেন দেখি রক্তচোষা ।


০৬-০৬-২০২৩
রকমারি থেকে বই কিনুন
মন্তব্য যোগ করুন

কবিতাটির উপর আপনার মন্তব্য জানাতে লগইন করুন।

মন্তব্যসমূহ

এখানে এপর্যন্ত 0টি মন্তব্য এসেছে।


slot gacor 2026 slot gacor situs slot gacor 2026