দায়ী ওই একমুঠো ভাত
- বেঞ্জিন বেঞ্জয়েট
হে বন্ধুবর ! মেনে নিবে কি আনার কলির আত্মকথা ?
যে জীবন ছিল বাস্তবের উপর মনে হবে যেন রূপকথা ।
শুধু জীবনের তাগিদে যাহা হয়েছে তার মেনে নিতে ,
জীবনের তরে সে জীবনকে বাধ্য করেছে কষ্ট দিতে ।
নিজের বলতে রাখেনি কিছুই সবই জীবনের 'পর চাপিয়ে ,
হাজারো মহামারী নিষ্পেষণ চলেছে জীবনের উপর দিয়ে ।
মাথা ফাটা রোদ তপ্তে পুড়ে যায় তনূ, হয়েছে কৃষ্ণবরণ ,
কি এলো গেলো রাখে না খবর , চাহেনি কোন আবরণ ।
তবুও তাতে নেই কষ্ট বিন্দুমাত্র, কষ্ট পুলিশের গ্রেফতার ,
সারাদিন ধরে ঘর্মে স্নান করেও রাত্রিতে হয়না নিদ্রা তার ।
তায় বেছে নিয়েছে নিরাপদ ভেবে ড্রেনের প্রশস্ত পাইপ ,
নোংরা জল, সর্প, বিচ্ছুর পথ ... মিলেছে সেথার জরিপ ।
পাইপের মাঝ বরাবর চাঁটাই পেতে গড়েছে শিথানের স্থান ,
হাড়ভাঙা শ্রম দিবাতে সেরে রাত্রিতে নিদিতে সেথায় জান ।
তারে তো বলা যায় না মানুষ, জীবন, তবুও মানুষ ভাবি ,
তাকে তো বাধ্য করেছে চাহিদা , যাহা সম'সাময়িকের দাবী ।
ছিল না অপরাধ তার, ছিল না ভুল জীবনের চাহিদার তরে ,
তবু সে চাহিদা নিয়তির কাছে নিতে পারেনি আপন করে ।
এক নিশিরাতে নিদ্রার সে পথিক , নীদে স্বপ্নে সে বিভোর ,
এক কাল সাপ আসি নিয়ে গেলো জীবন, খুঁড়িল তার গোর ।
বিধাতার জীবন সাপে নিয়ে গেলো আনার কলি পাইল মুক্তি ,
বুঝে আসেনি আজও সেই স্মৃতির অমানবিক যুক্তি ।
আমি মর্মে মর্মে মরি ধুঁকে ধুঁকে মানুষ কেন এতো অসহায় ,
কাহার জীবন কে নিয়ে যায় মানুষের কেন পড়ে এতো দায় ?
তবু জীবনের তরে দেখি কত দাঙ্গা আর কত সংঘাত ,
সব কিছুর দায়ী ওই এক মুঠো ভাত ... এক মুঠো ভাত ।
০৬-০৬-২০২৩
রকমারি থেকে বই কিনুন
মন্তব্যসমূহ
এখানে এপর্যন্ত 0টি মন্তব্য এসেছে।

মন্তব্য যোগ করুন
কবিতাটির উপর আপনার মন্তব্য জানাতে লগইন করুন।