আকাল
- প্রবীর রায়
জীবনের স্মরণীয় সে সাল,গাঁয়েতে পড়িল আকাল
সমগ্র প্রাণ অন্নাভাবে হাহাকার,কাটছে প্রহর অনাহার,
নর-নাড়ী রহিল ধনী কজন,পথ-ঘাটে শান্ত ধূলা এক্ষণ,
কিছুটা দূরে স্তূপাকারে চলছে কলরব,নিত্যদিনে বাড়ছে পতিতের শব।
শ্রমিকের ঘরে নেইকো শস্য মজুত করে রাখা,
বাসভূমির কোল যেদিকে চায় মরুর মতো খাঁ-খাঁ,
চাষের জমি পড়ে রয়েছে নেইযে চাষী ভাই,
কর্ম খোঁজে রেখে সংসার দূরনগরী যাই।
লঙ্গরখানা নিখোঁজ গাঁয়ে,খেঁটে চলে শীর্ণ হাতে-পায়ে,
ক্ষুধার লাগে হানাহানি,লুকিয়ে নারীর মানহানি,
কেউ মরছে কেউ মারছে দ্বীপ শিখা নেভে,কাঁদে জননী,
লহূ ঝরে ঘর্ম রুপে,কামানো টাকায় তৃষ্ণা মেটেনি।
দুর্ভিক্ষে দেবতা সঙ্গ ছারে,দুর্দিনে রোগ সুখ কাড়ে,
অর্থশালীর দয়াহীন হৃদয়,পতিত ধোঁখে মৃত্যুভয়ে,
ভাগ্য তাদের যেন পরিহাস, হয় কখনো গুণ্ডার দাস,
বেগার খাটা,রিক্সা চালানো,কায়া বিষে নিত্য জ্বালানো।
ক্ষুধার রাজ্যে ফেলেনা ফ্যান,অন্ন মাগে সর্ব দ্বার,
আকালে সব বেঁচে হাঘর,মৃত্যু হানায় ভয়াবহ মিছিল চারিধার,
একজন খেলে বাকিরা উপবাস,শোধেনা কভু মালিকের ধার,
রক্তাক্ত দিবসে হয়না কভু চলার বলগা শিথিল পার।
জনতা নিত্য দুঃস্বপ্ন দেখে আর মৃত্যুর পদধ্বনি শোনে,
গ্রাম-বাংলা শ্মশান ময়,চর্তুদিকে ঘনান্ধকার গুপ্ত আশা বোনে।
০৬-০৬-২০২৩
রকমারি থেকে বই কিনুন
মন্তব্যসমূহ
এখানে এপর্যন্ত 1টি মন্তব্য এসেছে।

মন্তব্য যোগ করুন
কবিতাটির উপর আপনার মন্তব্য জানাতে লগইন করুন।