শীত ও ছাতিম
- সোহরাব হোসেন - বেলা অবেলা
মহাকালের ছন্দময় চাক্রিক আবর্ত,
ষড়্ঋতুর বর্ণময় খেলার বৈচিত্র্য,
প্রকৃতির আছে রাশিরাশি রং রূপ ঢং
চির ষোড়শী ধরনীরে দিল অনন্ত যৌবন।
গ্রীষ্মের দাহ, বর্ষার তোপ, শরতের প্রহসন
ভাদ্রের শেষে পূর্ণতা পায় গরমের দুঃশাসন।
ভ্যাপসা গরমে অতিষ্ঠ হয়ে নিথর-ক্লান্ত মন
শীতের হিমেল পরশের লাগি আনচান-উচাটন।
হেমন্তের-ই বিদায় লগ্নে শীতের প্রাক্কালে,
বাতাসে ছাতিমের হিমেল বারতা, শীত আসলো বলে।
অপেক্ষার দীর্ঘপথ শেষে কাঙ্খিত আভাস-
রমনীর খোলা কেশ হতে যেন বাতাসে ভাসিছে সুবাস।
সপ্তপর্ণ, স্নিগ্ধ গন্ধা ছাতিমের শাখে শাখে
রাত্রি বেহাল সৌরভে মাতাল আগমনী উৎসবে।
অঙ্গে মাখিয়ে স্নিগ্ধ সুবাস, মনের বাসনা খানি-
সুরভি স্নানে এভাবেই চির যৌবনা হল ধরনী!
রং ঢং হীন ফুলের নেশায় তাবৎ পৃথিবী বুঁদ,
রজনী গভীরে সব ভুলায়ে মাতাল শীতের দূত।
কায়মনো হায় ভুলেছে কখন কামনার জৌলুশে
মেতেছে নেশায়, খোঁজিছে সুবাস তল্লাটে তল্লাটে।
যে নেশা করে হৃদয়ে সজীব প্রিয়হারা সুখস্মৃতি-
স্পর্শকাতর, বেদনা বিঁধুর, অনুভূতিময় আকুতি!
যে নেশা ডাকে আলেয়ার মত রজনীর আবডালে-
হৃদয় ভোলানো প্রিয় হারা সুরে বিরহী ইন্দ্রজালে।
শীতের কামনা, হিমেল বাসনা, হৃদয়ের আরাধনা
খোঁজে মরি ফের শীত ও ছাতিমের যুগপৎ উন্মাদনা।
ছাতিম দিয়ে যায় ঘ্রাণের বারতা, শীতের পূর্বাশা-
অতন্দ্র চোখে অপেক্ষায় থাকি তবু মেটেনা পিপাসা।
পুরাতন সেই শীত, সেই পুরোনো রূপে।
পুরোনো ছাতিমের নতুন ফুলের ইশারায়
আবারো আসছে শীত!
সুবাসিত মন্ত্রের সাধনে-
মন আমার পড়ে থাকে ছাতিমের ডালে,
মোহময়ী অনুভূতির ইন্দ্রজালে!
রহমান নগর, চট্টগ্রাম
সোমবার, ০৫ অক্টোবর, ২০১৫ ইং
#কবিতা_রবিন
০৬-০৬-২০২৩
রকমারি থেকে বই কিনুন
মন্তব্যসমূহ
এখানে এপর্যন্ত 0টি মন্তব্য এসেছে।

মন্তব্য যোগ করুন
কবিতাটির উপর আপনার মন্তব্য জানাতে লগইন করুন।