মায়ের বক্ষ জমিনে
- বেঞ্জিন বেঞ্জয়েট
বেদনা যাতনা দুঃখ কষ্টের সমুদ্দুর কি দেখেছ কভু হে ধরা ?
পুরো জগতটাকে রেখেছ শীতল, জননীর বুকে রাখিলে খরা ।
পুরো পৃথ্বী চাঁদের আলোতে স্নান করে আজি গর্বিত আকারে ,
এসে দেখে যাও আপন নয়নে জননী কেমনে মরছে আঁধারে ।
ধরা ... মিছে শুধু তোমারেই দোষী ,
জননীর সুত জননীরে খায় চুষিচুষি ।
জানি তুমি চেয়ে রও আশাতীত নয়নে দেখিতে মায়ের হাসি ,
করিতে পারো কিবা তুমি, জননীর সুত সাজিলে ভণ্ড সন্ন্যাসী ।
ওরা ছু মন্থরে চোখে মুখে তোমার লাগাতে জানে যাদুর স্তর ,
ওরা কাজে নয় , অকাজে আর কথার মারপ্যাঁচে বড় যাদুকর ।
এক ফুঁয়ে তোমারে ওরা তুলিবে স্বর্গে ,
মুণ্ডুতে ঢালিবে জল, গোড়া কাটি খড়গে ।
তুমি কি পাবে টের ধরা ? পাবে না নিশ্চিত জেনে রাখো তুমি ,
সব ভুলায়ে রাখিবে তোমা হতে , মিছে তোমার কপোল চুমি ।
ওরা জানে বাণ টানা , তেলেসমাতিতে ঘুচে দিবে বক্ষ-ফাঁফর ,
কিছুতেই তুমি টের পাবে না জুয়াচুরি বাটপাড়ি জটিল খপ্পর ।
ওরা ঘরে বসেই তোমারে দেখাবে চন্দ্রদেশ ,
কাচারীর ফলক বৈঠকখানায় করিবে পেশ ।
অন্তরে তাদের তাধিনাতাধিন , মুখে দয়ালের বুকভাঙ্গা ভাষা ,
কুঁড়েঘর দেখায়ে অশ্রু ঝরাবে রাশি, মনে তার প্রাসাদের আশা ।
সে প্রাসাদ ওরা স্বদেশে বাঁধে না , বাঁধে ওই এনওয়াই শহরে ,
ওরা জননীর উদরে লাথি মেরে মেরে আপনা উদরে স্বর্ণ ভরে ।
ধরা ... শুনেছি তোমার অনেক ক্ষমতা রাগ ,
তোমারে মিনতি করি মাকে দিও এক চেরাগ ।
যে চেরাগের স্পর্শে শিয়ালের ওই আত্মা খসে যাবে ধড় থেকে ,
মানবের নির্যাস আত্মা ফিরে পাবে সে চেরাগের জ্যোতি ঠেকে ।
লোলুপতা আর শকুনের প্রেতাত্মাটা নিপাত যাবে মস্তক ফাটি ,
যদি নাইবা তাহা পারো, মিনতি ফের দিও একটা যাদুর লাঠি ।
যে লাঠির স্পর্শে সব সিধা হবে এলোমেলো ,
দেখি যেন, মায়ে তার ন্যায্য হিসাব পেলো ।
আর সহে না প্রাণে বুকভাঙ্গা ক্রন্দন আর মায়ের রক্তাক্ত আঁচল ,
আর সহে না প্রাণে মায়ের বক্ষ জমিনে কলিজা ঝাঁঝরা 'দাবানল' ।
০৬-০৬-২০২৩
রকমারি থেকে বই কিনুন
মন্তব্যসমূহ
এখানে এপর্যন্ত 0টি মন্তব্য এসেছে।

মন্তব্য যোগ করুন
কবিতাটির উপর আপনার মন্তব্য জানাতে লগইন করুন।