তবু বেঁচে থাকে
- বেঞ্জিন বেঞ্জয়েট
কাঙালের নেই শেষ , আমার দেশ , দিকে দিকে পড়েছে শোর ,
মহৎ গণ, হতে পারে দু'চার জন সব মিলে দশ জন বড়োজোর ।
বাঁকি সব , করে শুধু কলরব, দেখি টানাহেঁচড়া সদা উদর দায়ে ,
আশা যে ভোজন লোলুপতায় দর্শন রক্ত লেগে থাকে হাতেপায়ে ।
অন্তরে প্রহসন, ছিন্ন বসন , আদায়ের উগ্রতা যেন ভাগীর ভাগ ,
এতো যে নিকৃষ্ট লাগে যেন শ্রেষ্ঠ, মনেতে দেখি কালের দেমাগ ।
শকুনের থাবা ঐ হাত, মুখে সর্পের বিষদাঁত, ঘোস্টের প্রতিচ্ছবি ,
বড় নির্বাক দয়িতের দূতের বাক কালে কালে যারা এসেছিল নবী ।
যত মিথ্যায় ভরেছে ধরা, সত্য বিদায় নিয়েছে ত্বরা, শূন্য খাঁচা ,
ঘিরিছে শূন্যতা ফিরে গেছে বদান্যতা একই সুতোয় মরা বাঁচা ।
যত ছিল সবুজে ঘেরা ভেঙে তার বেড়া গড়িছে তারা মরুপ্রান্তর ,
যুগে যুগে ভুগে ভুগে শিয়াল আর শকুনের কাছে হয়েছে হস্তান্তর ।
কালের সীমান্তে এসে বৈরাগ বেশে ভেসে যায় মাধবীনির দীর্ঘশ্বাস ,
সুরের স্নায়ু থেমে যায় রক্ত কণিকায়, এসে ফিরে যায় হিম বাতাস ।
প্রতিক্ষণে কাকের বিচরণে বড় খাঁ খাঁ লাগে মায়ের পৈতৃক জমিন ,
ফুরে আসে নিমিষেই আয়ু, বড় দূষিত বায়ু, দাড়ি চাঁচে সব মুমিন ।
যেখানে সেখানে কারণে অকারণে আসল মুমিনের গলাকাটা হয় ,
ধর্মের প্রবর্তন, মুখে প্রশান্তি অন্তরে সনাতন, অসুরের দেখেছি জয় ।
জাতেষ্টি নিয়েছি বিদায় নীলার শূন্যতায়, নাস্তিকের ঘটেছে জাগরণ,
অশালীনতার অবতার যেথা সেথা অহরহ ঘটে চলে তাই অপহরণ ।
যত খারাপের ঘটেছে আগমন , তত ভালোর হয়েছে অপসরণ ,
কালে কালে ভালোর আকালে নামিছে ভৈরবলীলা আর অপকীর্তন ।
বাসন্তী লাশের লালছায়া হতাশের , ক্রন্দন রোলে গগণ তীব্র ভার ,
তবু দেখি জোড়হাতে প্রভাতে শিয়ালের কাছে জীবন ভিক্ষের আবদার ।
বেঁচে থাকার প্রয়াসে দূষিত বাতাসে নির্লজ্জতা করেছে বরণ ,
তবু বেঁচে থাকে, সে জীবন'নদীর বাঁকে, মরণের সনে করে সন্তরণ ।
০৬-০৬-২০২৩
রকমারি থেকে বই কিনুন
মন্তব্যসমূহ
এখানে এপর্যন্ত 0টি মন্তব্য এসেছে।

মন্তব্য যোগ করুন
কবিতাটির উপর আপনার মন্তব্য জানাতে লগইন করুন।