প্রেমিকার জন্যে এলিজি
- ইমরান আহমেদ

অপ্সরা, আমরা না দূরত্বকে খুব ভয় পেতাম!
আর দেখ, এখন কত সহস্র কোটিরও
বেশি আলোক বর্ষ দূরত্ব আমাদের মাঝে।

মৃত্যুর কথা উঠতেই দ্রুত প্রসঙ্গ পাল্টে
ফেলার জন্য অস্থির হয়ে উঠতে তুমি!
আর এখন তোমার মৃত্যুর প্রসঙ্গ
কী নিখুঁত ভাবে আমার মাঝে গেঁথে দিয়ে
চুপ হয়ে আছো!

প্রিয় লেখকের কথা উল্লেখ করে একদিন
বললে, তাঁর বয়স খুব বেশি হয়ে গেছে বলে
তোমার আফসোস হয়,
দশ বছর হলো বাংলাদেশের গড় আয়ু
পার করে চলেছেন তিনি,
এ নিয়ে তোমার খুব দুশ্চিন্তা!
অথচ এখনও তিনি এই গ্রহে নিঃশ্বাস নিচ্ছেন,
খাচ্ছেন, দাচ্ছেন, ঘুমোচ্ছেন।
কালও দেখলাম টিভির পর্দায়, কেমন প্রাণবন্ত কথা বলছেন সান্ধ্যকালীন আড্ডায়।
আর তুমি চলেছো নক্ষত্র রেখায়
মুছে দিয়ে পুরোনো পায়ের ছাপ আশ্চর্য নৈঃশব্দ্যতায়।

তুমি নেই, অথচ সব কিছুই কেমন
অসম্ভব আগের মতোই আছে!
এই শহরে এখনও বৃষ্টি হয়,
প্রিয় ব্যালকনীতে জ্যোৎস্না নামে,
কখনো জানলার ফাঁক গলে ঢুকে পড়ে
শোবার ঘরে,
অনেক শীতে কুয়াশা পড়ে,
বসন্তে মেয়ের দল ফুলের ক্রাউন
আর মায়ের শাড়ি পরে,
দুঃখ গুলোকে ফানুসে ওড়ায়,
আমার মতো অসাবধানীরাও
খুব সাবধানে রাস্তা পেরোয়।
তোমার পছন্দের কবিতার বই গুলোয়
এখন অনায়াসে ধূলো জমবে
পছন্দের শাড়ি গুলো.. থাকবে,
আরো অনেক বছর হয়তো তোলা থাকবে আলমারিতে।
কেবল তোমার গায়ের গন্ধ মুছে গিয়ে ন্যাপথলিনের কৃত্তিম গন্ধরা
দখল করে নেবে শাড়ির ভাঁজ।

অপ্সরা, তোমার শীতল সৌন্দর্য্যময় মৃত্যুর
এই তৃতীয় বসন্তে,
হয়তো অনুরাগীদের ঝাপসা হবেনা চোখ
কুয়াশার মতো অশ্রুবিন্দুতে,
আয়োজিত হবেনা শোক সমাবেশ।
আমি চাইও না কোনো অনুষঙ্গে পরিবেশ ভারী হোক,
এ আমার হৃদয় পটে লেখা তোমার এপিটাফ
আর কবিতার খাতায় যাপিত ব্যক্তিগত শোক।


০৬-০৬-২০২৩
রকমারি থেকে বই কিনুন
মন্তব্য যোগ করুন

কবিতাটির উপর আপনার মন্তব্য জানাতে লগইন করুন।

মন্তব্যসমূহ

এখানে এপর্যন্ত 0টি মন্তব্য এসেছে।