আত্মহত্যা
- প্রবীর রায়

বাবা তুমি অশিক্ষিত, সরল মনের,
তাই সকলে তোমায় ঠকাই,
যা সম্বল ছিলো, সব কেঁড়ে নিলো নির্দয় আপনজন,
তাই তুমি আমাকে মাতৃগর্ভে রেখে,ভিনরাজ্যে গেলে উপার্জনে,
মা একলা কাঁদে,তোমাকে আর আমাকে নিয়ে বড় অসহায়,
সহস্র ব্যথা সয়ে আমাকে জন্ম দিলো,তোমার শূন্যতায়,
আমরা দুজন -দুজনাকে দেখতে পেলাম না,দোষ ভাগ্যের,
এরই ফাঁকে কেটে গেল তেরটি বছর,শুধুমাত্র একবার কাছে পেয়েছি তোমাকে বহু অপেক্ষার পরে,
বাবা আমার বন্ধু-বান্ধবী নেই,আমরা গরীব বলে ঘৃণা করে,
যদি তুমি পাশে থাকতে তবে তুমিই আমার বন্ধু হতে সুখ-দুঃখের,
মা এতটা পরিশ্রম করে যে মাকে বিরক্ত করতে দ্বিধা হয়,
বাবা আমি একটু বড় হয়েছি,তোমাদের কাছে নয়, সমাজের চোখে,
যৌবন, রক্তক্ষরণ, প্রেম এসব আমি বুঝিনা আর বলতেও ভয় পাই যদি মা বকে তাছাড়া লজ্জায়,
আমার গৃহশিক্ষক কে আমি গুরু রূপে শ্রদ্ধা করি কিন্তু তিনি কৌশলে কুমতলবে আমার সর্বাঙ্গে স্পর্শ করে,
তারপরে ভয় দেখিয়ে ধর্ষণ করে,পর্ণ ছবি বানিয়ে ব্ল্যাকমেল করে,
আমি লজ্জায় মাকে কিছু বলতে পারিনা,কারণ মাও একজন মেয়ে, একা লড়তে পারবেনা বরং সন্মান হারাবে,তাই নিজেকে ওই শিকারির কাছে নিজেকে বলিদান করেছি,
আজ যদি তুমিপাশে থাকতে তবেকি এসব হত বাবা ?
না হতোনা,কারণ তোমাকে সব বলতে পারতাম,
আজ আর সইতে পারছিনা,নিজেকে নিজের কাছে নোংরা মনে হচ্ছে,তাই আত্মহত্যার পথটা বেঁছে নিলাম।


০৬-০৬-২০২৩
রকমারি থেকে বই কিনুন
মন্তব্য যোগ করুন

কবিতাটির উপর আপনার মন্তব্য জানাতে লগইন করুন।

মন্তব্যসমূহ

এখানে এপর্যন্ত 1টি মন্তব্য এসেছে।

২৮-০১-২০১৮ ২০:৫২ মিঃ

এই সমাজের বাস্তব কাহিনী যা আজও বহমান প্রতিবাদী নিখোঁজ