নারীর পরিচয়
- প্রবীর রায়
স্বাধীনতার সত্তর বছর পেরিয়েও অবহেলিত
-পরিচয়ের ভুক্তভোগী নারী
একটি নারীর পরিচয় আজও পুরুষ নির্ভর-তারা ঘর বন্দী
মেয়ের পরিচয় বলতে সে কুমারী-সধবা নাকি বিধবা-
ভাবলে স্তব্ধ বাক
পাপীষ্ঠ সমাজ ব্যবস্থা একটি কন্যার পরিচয়েও খুঁত দেখে
ঘরে-সমাজে-দেশে এমনকি গোটা বিশ্বে নারীকে তুচ্ছ ভাবে
সিঁদুর-শাখা আর মঙ্গলসুত্র ধারণের পূর্বে সে যুবতী
বিয়ে করলেই পিতৃ পরিচয় শেষ,তখন তার পরিচয় তার স্বামী
কিন্তু একটি পুরুষের পরিচয় সে নারী নির্ভর নয়
বিবাহিত হোক বা অবিবাহিত সে অজেয়
নারীর শরীর শুধু ভোগ্যবস্তু,শুচি-অশুচির যুক্তি বিচার
পুরুষেরা যাকে খুশি-যখন খুশি ব্যবহার করতে সক্ষম
একটি নারীর পবিত্রতা শুধু তার স্বামীর বিছানায়-
মর্যাদাও সেখানে তুল্য সময়ে
নারীকে তার সতীত্বের পরিচয়ও দিতে হয় বৈবাহিক জীবনে
যে নিজ পরিচয়-অধিকার পেতে পা বাড়ায় তাকে-
পাপীষ্ঠ পুরুষেরা নষ্ট করে দেয়
একটি নারীর মূল্য ততক্ষণ,যতক্ষণ তার শরীর শুচি আর পবিত্র
তার শিক্ষা-গুণ ও যোগ্যতার কোনও মূল্য নেই এই সমাজে
সন্তানেরও পরিচয় তার পিতার পরিচয়ে
নারী জন্মের সার্থকতা বিবাহ নির্ভরে-মাতৃত্ব মূল্যহীন
বিধবা মেয়েকে অসতী-ডিভোর্সি নারীকে এঁটো বলে-
ব্যাক্ষ্যা করে এই সমাজ
তবে কি নারী জন্ম বৃথা ?
০৬-০৬-২০২৩
রকমারি থেকে বই কিনুন
মন্তব্যসমূহ
এখানে এপর্যন্ত 0টি মন্তব্য এসেছে।

মন্তব্য যোগ করুন
কবিতাটির উপর আপনার মন্তব্য জানাতে লগইন করুন।