মেয়ের কান্না
- প্রবীর রায়
বাবা তুমি যখন আমাকে প্রথম মাতৃগর্ভে-
সৃষ্টি করলে নিজ ঔরসে
আমায় নিয়ে দেখেছিলে সহস্র আশা-
স্বপ্ন প্রতিক্ষায় দিন গুনছিলে
আজ আমি যখন পৃথীবীর আলো দেখছি-
তোমার মুখ ফ্যাকাসে
মাও ছেড়ে চলে গেল স্মৃতিগুলো আর -
আমাকে ফেলে তোমার দ্বারে
তুমি মাকে কথা দিয়েছিলে- ভরসা দিয়েছিলে-
আমাকে কোনদিনো তোমার থেকে আলাদা করবেনা
তোমার আঙুল ধরে আমাকে বড় করবে-
আর বিপদে তুমিই আমাকে সাহারা দেবে-
কখনো মা হয়ে-কখনো ভাই হয়ে-কখনোবা বোন হয়ে
ভালোই চলছিল আমাদের প্রাত্যহিক জীবন-
হঠাৎ সবের পরিবর্তন হলো কেন ?
আমি এখন যুবতি-শরীরের বদল হয়েছে পৃথিবীর দোলাচলে
যেখানে তুমি আমার রক্ষক হবে-সেখানে
তুমিই হলে শেষে ভক্ষক
সম্পর্ক ভুলে পিটুইটারির ইঙ্গিতে কামে উত্তেজিত হলে
যার রূপ ভয়ঙ্কর
আমাকে নষ্ট করলে-বেশ্যা বৃত্তি আপন করালে
আজ সবাই আমাকে ছিড়ে খাই-ক্ষুধা মেটাতে সব ত্যাগ
যদি মা থাকতো পাশে-তখন ও কি তুমি তাই করতে ?
না পারতেনা ! তখন পা কাঁপতো কুবাসনা ভাবতেই
আমাকে অন্য মেয়ের মতো ভালো ঘরে বিয়ে দিতে-
ব্যস্ত থাকতে বহু কষ্ট সহ্য করেও
আমার সতীত্ব-আব্রু নষ্ট করতেনা
বরং বিপদে লাজ বাঁচাতে রক্ষক হয়ে
তাহলে আজ তোমাকে পিতা বলবো কোন মুখে ?
আমার ভাগ্য তুমিই গড়ে দিলে পাপীষ্ঠ সমাজে
আমি প্রার্থনা করি -তোমার মত বাবা কারোর না হয়-
যে মেয়ের রূপ-যৌবনে ক্ষুধা খোঁজে
পরিচয়টাও অর্থহীন-দিশাহীন।।
০৬-০৬-২০২৩
রকমারি থেকে বই কিনুন
মন্তব্যসমূহ
এখানে এপর্যন্ত 0টি মন্তব্য এসেছে।

মন্তব্য যোগ করুন
কবিতাটির উপর আপনার মন্তব্য জানাতে লগইন করুন।