জীবন কতটা কাঁদাতে পারে
- প্রবীর রায় - অণুগল্পআমার দিদুন মায়াবতী।যেমন নাম ঠিক তেমনি তার মায়া।একটি ছেলের আশা করতে করতে তিনটি মেয়ে হয়ে গেল তার মধ্যে মধ্যবিত্ত পরিবার।তাদের পড়াশুনা-বিয়ের আরো অনেক দিক চিন্তা করে আর সন্তান নেননি।দুই দিদি মানে রূম্পা আর ঝুম্পা তাদের বিয়ে দিয়েছে যা সম্পত্তি ছিলো সব বেচে,নিজেদের বাড়িটিকেউ বাঁচাতে পারেননি।এখন একা পরে থাকলো আমার মা মানে টুম্পা, দাদু আর দিদুন।মাসিরা সুখে আছেন।বহু কষ্টে জীবনে অনেক সংগ্রাম করে মাদের বেঁচে থাকা।হঠাৎ তারি মাঝে মায়ের বিয়ে ঠিক হল।বিয়ের দিন মা বিয়ের পিড়িতে বসে আর তখনই বিয়ে বন্ধ কারণ আমার ঠাকুরদা মানে বিশ্বপ্রতাপ পণ চেয়ে বিয়ে বন্ধ করে দিলো।সেই আঘাত সহ্য করতে নাপেরে দাদু মানে শ্যামল বাবু সঙ্গে সঙ্গে স্ট্রোক হয়ে মারা গেলেন।এখন কি হবে ? চারিদিকে হই হুল্লোর- কান্নাকাটি।নেহাত আমার বাবা মানে পিযুশ বাবু ভাল ছিলো বলে বিনা পণে বিয়ে করলেন অবশ্য তার সাজা পেয়েছে আমার মা বাবা।তাদের ঠাকুরদা ত্যাজ্য পুত্র ও পুত্রবধূ করেছেন।দাদুর সৎকাজের ভার পাড়ার লোকেরা নিয়েছিল।দিদুন একেবারে নিস্তব্ধ থমকে বসে পরেছে।মায়ের অজ্ঞান অবস্থায় বিয়ে হয়, মা পরে সব জানতে পারে।তারপর দিদুন একলা তাই স্ব ইচ্ছায় বৃদ্ধাশ্রমে চলে গেলেন।পাঁচ বছরের মাথায় আমার জন্ম।আদরে আমার নাম দাদুর নামেই রাখলো।ধীরে ধীরে ব্যথার মুহূর্ত গুলো জীবন থেকে মুছে যাচ্ছিলো,সুখ ফিরছিল সংসারে।এইভাবে দশটা বছর কেটে গেল।মাসিদের বাড়ি যাওয়া আসাও হয়,দিদুনের সাথেও সময় কাটানো হয়।সবমিলে সুন্দর জীবন।হঠাৎ ফিরে এলো পুরনো ঘটনার চেয়ে বড় ঝড়,তা হল আমরা সপরিবারে একদিন দিদুনকে দেখতে যাচ্ছিলাম বৃদ্ধাশ্রমে,তিনি ডেকেছিলেন বলে।গন্তব্যে প্রায় চলে গিয়েছিলাম আর পাঁচ মিনিটের পথ, তখনি একটি লড়ি এসে ধাক্কা মারে আমাদের রিক্সোকে।বাবা স্পটে ডেড আর মা হাসপাতালে নিয়ে যেতে মাঝ পথেই ছেড়ে চলে গেলেন।দিদুনের কানে পৌঁছলো সব খবর।তখনি নিজেকে দোষী ভেবে (কারণ তিনি ডেকেছিলেন জন্যই আমরা যাচ্ছিলাম আর তার জন্যই এই দুর্ঘটনা,না ডাকলে হয়তো এমন হতো না) দরজা বন্ধ করে কাঁদতে কাঁদতে প্রাণ ত্যগ করলেন।আর মাসিরা খুব দরিদ্র, নিজেদের পেট চালাতে নুন আনতে পান্তা ফুরোয় এমন অবস্থা।সে সংসারে আমার দুধের খরচ ওঠানো অসম্ভব।অনেক চিন্তা ভাবনা করে আমাকে অনাথ আশ্রমে রেখে দিলেন আর নিজেদের আত্মগোপন করলেন।অবশ্য আমি এসব জেনেছি মাসিদের জন্যই তারা আশ্রমের কর্তাকে সব জানিয়েছিলেন আর বলেছিলেন কুড়ি বছর বয়সে সব বলতে, আর যদি আমাদের কথা জিজ্ঞেস করে তবে বলবেন আমরা দূর শহরে গেছি। তাই আজ আমি একলা,এই পৃথিবীর সকলেই আমার কাছে আপনজন ও পরম আত্মীয়।।
০৬-০৬-২০২৩
রকমারি থেকে বই কিনুন
মন্তব্যসমূহ
এখানে এপর্যন্ত 0টি মন্তব্য এসেছে।

মন্তব্য যোগ করুন
কবিতাটির উপর আপনার মন্তব্য জানাতে লগইন করুন।