নিজেকে পাল্টালাম
- প্রবীর রায় - অণুগল্প

কদিন হল পা ভেঙেছে,তাতেই মনে হচ্ছে জীবনের কতটা মুহূর্ত কেড়ে নিল ভগবান আমার কাছ থেকে।একদিকে অবশ্য ভালোও হয়েছে,কাজ বন্ধ,টেনশন বন্ধ।ঘরে বসে থেকে সারাটি দিন-রাত বোকা বাক্সতে আনন্দ উপভোগ করা।জানোতো যাকে সকলে বোকা বাক্স বলে জানি,সে আর বোকা নয়।সে চালাক হয়েছে।বরং আমরাই বোকা রয়ে গেছি, তাকে বুঝতে পারিনি বা বোঝার চেষ্টাও করিনি।আমার কাছে এমন মনে হওয়ার কারণাটা নিশ্চয় জানতে চাও,তাহলে বলি শোনো।তাতে বিভিন্ন শিক্ষামূলক আর জ্ঞান মূলক চ্যানেলও আছে যা মানুষকে -মানুষ গড়তে সাহায্য করে।তার অহংকার বোধ ভেঙে ভালো মনটাকে জাগিয়ে তোলে।তাছাড়া নিজের প্রতিভাকে সকলের সামনে তুলে ধরে।অবশ্য তার খারাপ দিকও আছে,সে গুলো বললাম না বুঝে নিও।এই বোকা বাক্সই মানুষকে সচেতন হতে সাহায্য করে বিভিন্ন প্রোগ্রামের মাধ্যমে, কিছু কিছু চ্যানেল আছে যারা সমাজের শৃঙ্খলাকে ভেঙে ফেলে। এই একমাত্র পারে গোটা বিশ্বের খবর আমাদের কাছে বয়ে আনতে।আমি এক বখাটে ছেলে আমাকে ভালো করার পেছনে তারই হাত।এই পা ভাঙা অবস্থায় একটা নিউস চ্যানেল দেখছিলাম,সেখানে দেখি এক পাহাড়ের গুহায় ১৩ জন শিশু তাদের কোচ সহ আটকা পরে,খেলার শেষে বাড়ি ফেরার পথে।সেই গুহায় তারা ঘুরতে গিয়েছিল,যেতে যেতে প্রায় ২কিমি চলে গিয়েছিল আর তখনই প্রচণ্ড বৃষ্টি।সেই বৃষ্টির জলে তারা আটকা পরে যায়।তারা সেখানে না খেয়ে কষ্টে সময় পার করে তিলে তিলে।ঠিক নেই তারা বাঁচবে কি মরবে।সে খবর পাওয়া মাত্র সব দেশ তাদের শত্রুতা ভুলে হাত বাড়িয়েছিল ওদের বাঁচানোর জন্য।প্রায় আটটি দেশের বড় বৈজ্ঞানিক-ডাক্তার আর সেনারা তাদের জন্য লড়ছে প্রকৃতির সঙ্গে।আমার কষ্ট তাদের কষ্টের কাছে মূল্যহীন,নিজের ভুল বুঝতে পারলাম।অবশেষে সকলকেই বাঁচানো হয়েছিল কিন্তু একজন সেনা তাদের বাঁচাতে নিজের প্রাণ ত্যাগ করেছে জলের তলায়।আর আমি সামান্য কিছু দিনের জন্য ছটফট করছি,ছি নিজেকে লজ্জাবোধ করলাম।যারা জন্ম থেকেই প্রতিবন্ধী তারা সব থেকে বঞ্চিত,তাদের জীবন জর বস্তুর মতো,সব কষ্ট বেদনাকে নিজেরাই গেলে প্রতিটি নিশ্বাসে।আরো অনেক ভাবনা আমার চেতনার দ্বার খুলে দিলো,যার ফলে অহংকারী মনোভাবকে কবর দিলাম এবং নিজেকে পাল্টাতে অগ্রসর হলাম।।


০৬-০৬-২০২৩
রকমারি থেকে বই কিনুন
মন্তব্য যোগ করুন

কবিতাটির উপর আপনার মন্তব্য জানাতে লগইন করুন।

মন্তব্যসমূহ

এখানে এপর্যন্ত 0টি মন্তব্য এসেছে।