শিক্ষা
- প্রবীর রায় - অণুগল্প
মানুষকে হেয় করা-অপমান করা কিছুকিছু মানুষের স্বভাব
আর সেটাই তাদের কাজ, তাছাড়া কারোর ভালো লাগে।সেদিন তেমনি এক ঘটনা ঘটলো।এক জীর্ণ- শীর্ণ হকার আমাদের বাড়ির পাশ দিয়ে যাচ্ছিল,একেতে খাঁখাঁ রোদ তারওপর পায়ে হেঁটে জিনিস বেঁচছিল।তার মাথায় ছিল কেজি পাঁচেকের ঘুগনির গামলা।যেটা বেঁচে তার সংসার চলে,ছেলে-মেয়েরা পড়াশুনা করে আবার তার মধ্যেই কিছু অর্থ বাঁচিয়ে রাখে ভবিষ্যৎকালের জন্য।আমার দেখেই কষ্ট হচ্ছিল।আমাদের গ্রামের সমস্ত গলি ঘোরার পর বাড়ি ফিরছিল আমি তখনো জানালার পাশে বসে। দেখি যে কিছু শিক্ষিত ছেলে -মেয়েরা লোকটিকে খেপাচ্ছে একটা কৌতুক করে,যে কথাটা বলে লোকটি ঘুগনি বেচছিলো(স্পেশাল চানা) তারি পরিপ্রেক্ষিতে ওরা বলছিল পেছনে ছানা।আমি সেই দৃশ্যটা সহ্য করতে পারলাম না,এগিয়ে গেলাম আর তার প্রতিবাদ করলাম।তাদের বললাম-তোমরা বাপের ঘাড়ে বসে খাচ্ছোতো-কি বুঝবে অন্যের ব্যথা,যেদিন নিজের ঘাড়ে সংসার চাপবে সেদিন বুঝবে কত ধানে কত চাল।আমার কথাটা শুনে সকলেই লজ্জা বোধ করলো নিজেদের এবং ক্ষমাও চাইলো-এই বলে যে আর কোনোদিন কাউকে ক্ষেপাবোনা যদি দেখি যে কেউ ক্ষেপাচ্ছে তার প্রতিবাদ করবো।কিন্তু তাদের দলের একজন বলে উঠলো আমার মুখ দিয়ে আমি বলেছি তাতে কার কি আসে -যাই,কেউ কি আমায় খাওয়াই না পড়াই, যে তার কথা শুনবো।অবশ্য সেই বাচ্ছাটার কোনো দোষ নেই- কারণ তার বাড়ি থেকে যে শিক্ষা দিয়েছে তার মধ্যে তাই রোপণ হয়েছে।আমি আর কথা না বাড়িয়ে চলে এলাম,আর মনে মনে ভাবলাম ঠাকুর বাচ্ছাদের আগে তার গার্জেনদের ভালো শিক্ষা দিও,যেণ নিষ্পাপ শিশুরা ওদের সাজা না পাই।।
০৬-০৬-২০২৩
রকমারি থেকে বই কিনুন
মন্তব্যসমূহ
এখানে এপর্যন্ত 0টি মন্তব্য এসেছে।

মন্তব্য যোগ করুন
কবিতাটির উপর আপনার মন্তব্য জানাতে লগইন করুন।