মেয়াদোত্তীর্ণ ঔষধ যখন বিষ
- মারুফুল হাসান

বাসন্তী, ফুল না তুলে, গলায় মালা না দিয়েই একদিন মামার বাড়ি গেলে। মা-মরা মেয়ে তুমি। মামা-মামিদের আদর একটু বেশিই। অন্যদিকে আমাকে চেপে ধরে চিকেন পক্স ও টাইফয়েড জ্বরে। কী সব সুগন্ধী তেল-পড়া আমার গায়ে মাখিয়ে সারারাত পাহারা দেয় মা। এ সংবাদ কোন বাতাস তরঙ্গ যে তোমার কানে পৌছাল জানি না। এক পড়ন্ত বেলায় গাছের ছায়াগুলো যখন দীর্ঘ হতে শুরু করেছে তখন তুমি এলে সোজা আমার ঘরে। উঠে বসলে বিছানায়। করুণ চোখ মলিন মুখ আর কাঁপা কাঁপা গলায় বললে, জীবন দা খুব কষ্ট হচ্ছে বুঝি? আমি হাসির ভান করে বললাম, ‘কষ্ট কীরে বাসু? জীবন মানেই তো কষ্ট। এজন্যই জন্মের সাথে সাথে কেঁদে উঠেছিলাম।’ একটু হেসে তুমি বললে, ‘তুমি জানো কেঁদে উঠেছিলে কি না? সে কথা তোমার মনে পড়ে জীবন দা?’ আমিও হাসতে হাসতে বললাম,‘সবই কি দেখতে হয় রে পাগলি?’ আমার হাসি শুনে মা বলল, ‘এবার আসল অষুধ পড়ল।’ তারপর থেকে আর কখনও আমার পাশে ঘেষেনি চিকেনপক্স। আমার ছেলে ‘বর্ণমালা শিখি’তে এখন পড়ে, ‘ঔ-তে ঔষধ হয় সাপের বিষে।’ আমার কানে বাজতে থাকে মেয়াদ শেষে ঔষধ হয় সাপের বিষ। বিষে বিষাম্বর হৃদয় কথা বলে না। বোবা কান্না চেপে আলিঙ্গন করি বিরহ যাতনা।


০৬-০৬-২০২৩
রকমারি থেকে বই কিনুন
মন্তব্য যোগ করুন

কবিতাটির উপর আপনার মন্তব্য জানাতে লগইন করুন।

মন্তব্যসমূহ

এখানে এপর্যন্ত 0টি মন্তব্য এসেছে।