উপলব্ধিঃ হৃদয়ের পরশপাথর
- সোহরাব হোসেন - বেলা অবেলা

রুদ্ধ আবেগের বাতায়নে ঠায়
বসে আছো অসহায়,
গম্ভীরা বাজাও একা আনমনে
ভেবে ভেবে নিরালায়।

নিধি!
তোমায় দিলাম এই খোলা চিঠি;
প্রাণ খুলে শোনো বলি—
হৃদয় গহীনে অতল রোদন
দাও সবি জলাঞ্জলি।
চির বহমান সময়ের স্রোতে
ছোট্ট এ জীবনখানি,
চলে গেলে ফের আসবে না আর
মুছে ফেলো সব গ্লানি।
মনের গহীনে রাখিও স্বপন,
মোলায়েম সযতন,
দুঃখানুভূতি, হয়ে যাক যতি
তিলে তিলে সংবরণ।

মনের কোণেতে পড়ে যদি কভু
নীল বিষাদের ছটা,
হৃদয় গগণে জড়ো হলে মেঘ
অবসাদে ঘনঘটা।
মন না লাগিলে কিছুতেই জেনো
রয়েছি তোমার মনে,
দিও ছুটি সব অবসাদ যতো
মন খারাপের ক্ষণে।

ঘুরে ফেরা সব কালো মেঘ জুড়ে
ছড়িয়ে দিও আমায়,
অকারণে আজ মন ভালো হোক
ডানা মেলা ভাবনায়।
একগুঁয়েমির ছুটি দিয়ে তবে
মনকে করো ছোঁয়াচে,
প্রাণের সুধায় উপচানো ধারা
ছড়াও আনাচে কানাচে।
সুখের আবেশে মনের খেয়ালে
দিগন্তে ছড়াও রং,
নিবেদিত হবে আলোকিত ক্ষণে
চারিপাশে যতো ঢং!

শুধুই তোমার জন্যে—
মধুর আমেজে সেজেছে আকাশ
মেঘেদের কারুকাজে,
বিচ্ছুরিত ওই সোনালি রোদ্দুরে
চেয়ে দেখ হাসে লাজে!
এতোকাল ধরে অগোচরে ছিলো
কতশত কথা হায়!
শুভকামনায় খচিত আকাশে
অবারিত নকশায়।
দূর হতে ডাকে ভুবনমোহিনী
পাখিদের কলতান,
বাতাসের বুকে ভেসে ভেসে যায়
মৃত্তিকার সোঁদা ঘ্রাণ।
নারিকেল শাখে মগডালে দেখো
ঝিরঝির হাতছানি,
সাদামাটা সব ইচ্ছে ছুঁয়ে দেয়
সোনার স্বপনখানি।

তোমার তুমিরে সযতনে খোঁজ
থেকো না বিষণ্ন মনে,
অভিমান যতো হোক উপশম
মুখরিত আয়োজনে।
দুঃখদের আর করিও না জড়ো
বিন্দু বিন্দু থেকে গুরু,
অনুভবে গড়া পরশপাথরে
হোক জীবনের শুরু।

বৃহস্পতিবার, পতেঙ্গা
০৮ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ইং।


০৬-০৬-২০২৩
রকমারি থেকে বই কিনুন
মন্তব্য যোগ করুন

কবিতাটির উপর আপনার মন্তব্য জানাতে লগইন করুন।

মন্তব্যসমূহ

এখানে এপর্যন্ত 2টি মন্তব্য এসেছে।

০৫-১০-২০১৮ ১২:২৩ মিঃ

ধন্যবাদ, ভাই তৌহিদুল ইসলাম রবিন

২২-০৯-২০১৮ ২০:০৬ মিঃ

অনুভবে গড়া পরশপাথরে হোক জীবনের শুরু।
-মনোমুগ্ধকর লেখা।